রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব? জেনে নিন শরিয়তের সঠিক বিধান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব? জেনে নিন শরিয়তের সঠিক বিধান

ইসলামী শরিয়তে কোরবানি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে সম্পদের পরিমাণ বা নেসাবের সঠিক হিসাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভিন্ন জিজ্ঞাসা রয়েছে।

কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য ব্যক্তিকে অবশ্যই নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে। শরীয়তি বিধান অনুযায়ী, কারো কাছে যদি সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা থাকে তবে তিনি কোরবানি করার উপযুক্ত বলে গণ্য হন। 

বর্তমানে স্বর্ণ ও রুপার দামের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় ফুকাহায়ে কেরাম রুপার নেসাবকেই মানদণ্ড হিসেবে ধরার পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী, কারো কাছে যদি সাড়ে ৫২ ভরি রুপার বাজার মূল্যের সমপরিমাণ নগদ টাকা, ব্যবসায়িক পণ্য বা জীবন ধারণের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ থাকে তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

সম্পদের হিসাব করার ক্ষেত্রে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বিবেচনার বাইরে থাকে। বসবাসের ঘর, পরিধেয় বস্ত্র, দৈনন্দিন ব্যবহারের আসবাবপত্র এবং পেশাগত যন্ত্রপাতি নেসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে এর বাইরে থাকা অতিরিক্ত জমি, অব্যবহৃত ঘর বা সৌখীন আসবাবপত্র যা দৈনন্দিন প্রয়োজনে লাগে না, তার মূল্য যদি রুপার নেসাব স্পর্শ করে তবে ওই ব্যক্তির ওপর কোরবানি বাধ্যতামূলক হবে। বর্তমান বাজার অনুযায়ী কোরবানির দিনগুলোতে কারো কাছে এক লাখ ৭৫৮ টাকা বা এর সমমূল্যের অতিরিক্ত সম্পদ থাকলে তাকে কোরবানি দিতে হবে।

যাকাতের সঙ্গে কোরবানির একটি মৌলিক পার্থক্য হলো সম্পদের মালিকানার সময়কাল। যাকাতের ক্ষেত্রে সম্পদ পুরো এক বছর মালিকানায় থাকার শর্ত থাকলেও কোরবানির ক্ষেত্রে জিলহজ মাসের ওই নির্দিষ্ট তিন দিন নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকাই যথেষ্ট। এমনকি ১২ই জিলহজ সূর্যাস্তের ঠিক আগ মুহূর্তেও যদি কেউ প্রয়োজনীয় সম্পদের মালিক হন, তবে তাকে কোরবানি দিতে হবে। তবে কেউ যদি ঋণগ্রস্ত থাকেন এবং ঋণ পরিশোধের পর তার কাছে নেসাব পরিমাণ অর্থ না থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না।

পরিবারের প্রতিটি সামর্থ্যবান সদস্যের জন্য আলাদাভাবে কোরবানি দেওয়া আবশ্যক। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করা শরীয়তে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। হাদিস শরীফ অনুযায়ী, পশুর রক্ত জমিনে পড়ার আগেই তা মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করা হয়। মূলত আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যেই এই আর্থিক ইবাদত পালন করতে হয়।