জুন ২, ২০২৬, ১১:০২ এএম
প্রতিটি জীবিত প্রাণীকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে এবং এই ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের সমাপ্তির পর মানুষের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক ধাপই হলো অন্ধকার কবর। কবর থেকে শুরু করে কিয়ামত বা পুনরুত্থান পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন এই দীর্ঘ অদৃশ্য জীবনকে ইসলামি পরিভাষায় ‘আলমে বারজাখ’ হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে অভিহিত করা হয়।
বিখ্যাত সাহাবি হজরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, কবর হলো আখিরাতের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা যেখানে মুক্তি পেলে পরবর্তী সমস্ত ধাপ সহজ হয়ে যায়।মানবজীবনের এই পরম সত্য ও অবশ্যম্ভাবী অধ্যায়ে প্রতিটি মৃত মানুষকে বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী নির্বিশেষে তিনটি মৌলিক প্রশ্ন করা হবে।
প্রথম প্রশ্নে জানতে চাওয়া হবে মানুষের একমাত্র রব বা প্রতিপালক কে, যার জবাবে কেবল খাঁটি তাওহিদে বিশ্বাসী ব্যক্তিরাই সফলভাবে উত্তর দিতে পারবেন। দ্বিতীয় প্রশ্নে মানুষের দীন বা জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, যেখানে পার্থিব জীবনে যারা পরিপূর্ণভাবে ইসলামকে আঁকড়ে ধরেছিলেন তারাই কেবল সঠিক উত্তর দেবেন।
সর্বশেষ বা তৃতীয় প্রশ্নটি হবে মানবজাতির মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র আদর্শ, সুন্নাহ এবং সিরাত অনুসরণের বিষয়ে।দুনিয়ার জীবনে যারা মানবরচিত ও ভ্রান্ত মতবাদকে নিজেদের জীবনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছিল, তারা কবরের এই তিন প্রশ্নে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে চরম আজাবের মুখোমুখি হবে।পক্ষান্তরে, যারা এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রশ্নের যথাযথ ও নির্ভুল জবাব দিতে সক্ষম হবেন, তাঁদের জন্য জান্নাতের দরজা ও বিছানা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
মহানবী (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট বাণী অনুযায়ী, তখন কবরের অন্ধকার দূর হয়ে তা দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত অত্যন্ত প্রশস্ত ও আলোকময় এক জান্নাতি টুকরোয় পরিণত হবে। সেই সাথে বিশ্বাসী বান্দার দুনিয়ার সৎ আমলগুলো এক অত্যন্ত সুন্দর চেহারা বিশিষ্ট সুবেশী ও সুগন্ধিযুক্ত পরম হিতৈষী বন্ধু রূপে কবরে এসে তাকে কিয়ামত পর্যন্ত সঙ্গ দেবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন