জুলাই ২, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবী মুমিনের জন্য পরীক্ষার মতো। পরকালে সফল হতে মহান আল্লাহর হুকুম পালনের পাশাপাশি প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা অপরিহার্য। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, জমিনের ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোর শোভাবর্ধন করেছি, যাতে মানুষকে পরীক্ষা করা যায় আমলের ক্ষেত্রে কারা উত্তম। ঈমান ও নেক আমলের পথই জান্নাতের পথে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম।
নবীজি (সা.) তিনটি বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের জন্য জান্নাতে ঘরের জিম্মাদার হয়েছেন।হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) জান্নাতের তিনটি নির্দিষ্ট স্থানে ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রথমত, যে ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করে, তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের দায়িত্ব তিনি নিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি কৌতুক বা তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না, তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার তিনি।
এবং তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সুন্দর ও মাধুর্যমণ্ডিত করেছে, তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে একটি ঘরের নিশ্চয়তা দিয়েছেন বিশ্বনবী।চরিত্রের মাধুর্য ও সততা একজন মুমিনের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা পরিহার করা এবং অযথা ঝগড়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা পরকালীন জীবনের সুখের চাবিকাঠি। এই হাদিসটি কেবল উপদেশ নয়, বরং একটি উত্তম জীবন যাপনের দিকনির্দেশনাও বটে।
প্রতিদিনের জীবনে এই তিনটি গুণ অর্জনে সচেতন হলে পরকালে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম অর্জন করা সহজতর হতে পারে।ইসলামি জীবনচর্চায় ধৈর্য এবং সত্যবাদিতার গুরুত্ব অপরিসীম। জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থানের সুযোগ পেতে চরিত্রের সৌন্দর্য রক্ষা করা একটি বড় ইবাদত। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও প্রিয় নবীর (সা.) সান্নিধ্য পেতে প্রতিটি মুমিনকে এই গুণাবলী অর্জনে সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন