জুলাই ২৫, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী জীবন শেষ করে পরকালে চিরসুখের ঠিকানা জান্নাত অর্জন করাই প্রতিটি মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য।পবিত্র কোরআনে মুত্তাকি বা পরহেজগার বান্দাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।সুরা আল ইমরানের তিরাশি থেকে ছিয়াশি নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের বিশেষ কিছু গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের মতে, কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলে আখিরাতের সফলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
মুত্তাকিদের প্রথম প্রধান গুণ হলো তারা কেবল সচ্ছল অবস্থাতেই নয়, বরং চরম আর্থিক অসচ্ছলতা বা টানাটানির সময়েও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে থাকেন। তাদের দানের পেছনে লোকদেখানোর কোনো মানসিকতা থাকে না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিই প্রধান উদ্দেশ্য হয়। দ্বিতীয় গুণ হলো প্রচণ্ড রাগ বা ক্রোধের মুহূর্তে নিজেকে সংযত রাখা। যারা রাগের মুখেও ধৈর্য ধারণ করতে পারেন, ইসলামে তাদের বিশেষ মর্যাদার কথা বলা হয়েছে।
তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো অন্যের ভুল বা অন্যায় ক্ষমা করে দেওয়ার উদারতা অর্জন করা। চতুর্থত, মুত্তাকিরা সর্বদা মানুষের কল্যাণ ও পরোপকারে নিজেদের নিয়োজিত রাখেন এবং কারও ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকেন। পঞ্চমত, মানুষ হিসেবে ভুলবশত কোনো পাপ কাজ বা গোনাহ হয়ে গেলে তারা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আল্লাহর কাছে তওবা করেন। ষষ্ঠ ও শেষ প্রধান গুণটি হলো একবার ভুল সংশোধনের পর সেই একই অপরাধের পথে আর কখনো পা না বাড়ানো এবং নিজের চরিত্রকে সুরক্ষিত রাখা।
এই ছয়টি গুণের সুষম চর্চা একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে সুন্দর ও শৃঙ্খলিত করে তোলে। ধর্মীয় পণ্ডিতদের মতে, মুত্তাকিদের এই গুণগুলো কেবল ইবাদতের অংশ নয়, বরং এটি একটি আদর্শ সমাজ গঠনেরও মূল ভিত্তি।সবাই যেন নিজেদের জীবনকে এই নৈতিক ও মানবিক গুণগুলোর আলোকে পরিচালনা করতে পারেন, সেই প্রত্যাশাই করেন ধর্মীয় গবেষকরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন