আগস্ট ৪, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম
পৃথিবীতে সন্তানের প্রতি সবচেয়ে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মমতার প্রতীক হলেন মা। ইসলাম ধর্মে মায়ের মর্যাদাকে এত উঁচু স্থানে রাখা হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের নির্দেশের পাশাপাশি মা-বাবার প্রতি সদাচরণের সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি মায়ের খিদমত করেন, তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান এবং সফলতার অগণিত দরজা খুলে যায় বলে ইসলামী শরিয়তে উল্লেখ আছে।স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) মায়ের পদতলে সন্তানের জান্নাত বলে ঘোষণা করেছেন।
পবিত্র কোরআনের সুরা বনি ইসরাঈল এবং সুরা লুকমানে মা-বাবার কষ্টের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাঁদের সঙ্গে উত্তম আচরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বার্ধক্যে উপনীত হলে তাঁদেরকে সামান্য বিরক্তি প্রকাশক শব্দ ‘উফ’ বলতেও কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উত্তম সঙ্গ লাভের সবচেয়ে বেশি হকদার কে জানতে চাইলে, তিনি পরপর তিনবার মায়ের কথা বলেন। চতুর্থবার তিনি বাবার কথা উল্লেখ করেন।
ইসলামের ইতিহাসে মাতৃসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন বিখ্যাত তাবেঈ উওয়াইস আল-কারনী (রহ.)। রাসুল (সা.)-এর যুগে জীবিত থাকা সত্ত্বেও শুধু মায়ের সেবায় নিয়োজিত থাকার কারণে তিনি মদিনায় গিয়ে নবীজির সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেননি। কিন্তু এই মাতৃসেবার কারণে তিনি এত উচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন যে, নবীজি স্বয়ং সাহাবায়ে কেরামকে তাঁর কাছে গিয়ে দোয়া চাইতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। মায়ের খিদমতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যে অত্যন্ত সহজ, এটি তারই অকাট্য প্রমাণ।
বর্তমান সমাজের অনেক বৃদ্ধ মা যখন অবহেলার শিকার হন, তখন ইসলামের এই শিক্ষাগুলো আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। মায়ের জীবদ্দশায় তাঁর সর্বোচ্চ সেবা করা এবং মৃত্যুর পর তাঁর জন্য দোয়া ও সদকার মাধ্যমে একজন মুমিন কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন