আগস্ট ৭, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
সড়ক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে মৃত্যু কিংবা বিভিন্ন আকস্মিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হন কি না—সে বিষয়ে ধর্মীয় বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। সাধারণ অর্থে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর সাথে লড়াই করে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে শহীদ বলা হলেও, ইসলামি পরিভাষায় শহীদের পরিধি আরও ব্যাপক। মুমিন বান্দার বিভিন্ন আকস্মিক ও কষ্টের মৃত্যুকে পরকালের বিচারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী বিভিন্ন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া ব্যক্তিরাও শহীদের সওয়াব লাভ করতে পারেন।ইসলামি ফিকহ ও সহিহ হাদিসের তথ্য মতে, শহীদ প্রধানত দুই বা তিন প্রকারে বিভক্ত। এর মধ্যে সরাসরি রণক্ষেত্রের শহীদদের দাফন ও গোসল ছাড়াই দাফন করার বিধান থাকলেও, অন্যান্য আকস্মিক দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিরা পরকালে শহীদের মর্যাদা বা সওয়াব লাভ করেন। নবী করিম (সা.)-এর একাধিক হাদিসে মহামারীতে মৃত্যু, পেটের পীড়ায় মৃত্যু, পানিতে ডুবে মৃত্যু, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু এবং কোনো ভবন বা ছাদ ধসে চাপা পড়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে শহীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা বা যানবাহনের আকস্মিক সংঘর্ষের ফলে প্রাণহানি মূলত ছাদ বা দেয়াল চাপা পড়ার মতোই আকস্মিক ও কষ্টদায়ক মৃত্যুর সমতুল্য। মুফতি ও ইসলামি গবেষকদের মতে, এসব দুর্ঘটনায় যারা ঈমান ও ইবাদতের ওপর থেকে হঠাৎ মৃত্যুবরণ করেন, তারা আখিরাতে শহীদের সওয়াব পাবেন বলে আশা করা যায়। তবে পার্থিব বিধান অনুযায়ী তাদের সাধারণ মৃত ব্যক্তির মতোই গোসল ও জানাজা সম্পন্ন করে দাফন করতে হবে।
আকস্মিক এসব মৃত্যুর ঘটনা মানুষের জন্য বেদনাদায়ক হলেও ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে তা বান্দার জন্য বিশেষ পরীক্ষার অংশ। ঈমান ও ধৈর্যের সাথে এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করলে মহান আল্লাহর দরবারে মুমিন বান্দা উচ্চ মর্যাদা লাভ করতে পারেন। পরকালের এই সুসংবাদ দুর্ঘটনা বা বিপদে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের মানসিক সান্ত্বনা হিসেবে কাজ করে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন