আগস্ট ১২, ২০২৬, ১০:১৫ এএম
আজ বুধবার হিজরি সনের সফর মাসের শেষ দিন, যা মুসলিম সমাজে আখেরি চাহার সোম্বা হিসেবে পরিচিত। ফারসি শব্দগুচ্ছের এই বাক্যটির অর্থ সফর মাসের শেষ বুধবার। ইসলামী ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত এই দিনটি ঘিরে মুসলিমদের একটি অংশের মধ্যে বিভিন্ন নফল ইবাদত ও দানসদকা পালনের রেওয়াজ রয়েছে। তবে এই দিবস উদযাপনের ঐতিহাসিক ভিত্তি এবং ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলেম ও গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে।
ঐতিহাসিক সূত্র ও গবেষকদের মতে, মহানবীর সুস্থতা বা অসুস্থতার নির্দিষ্ট দিনতারিখ নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় এই দিনের সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না।জনপ্রিয় প্রচলন অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষ পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থতার পর এই দিনে কিছুটা সুস্থতা বোধ করেছিলেন এবং সাহাবিরা খুশি হয়ে দানসদকা করেছিলেন। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, মহানবীর ইন্তেকালের পর সাহাবি বা তাবেয়িদের কেউ এই দিবস উদযাপন করেননি।
বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত সাহাবিদের বিশাল অঙ্কের দানের ঘটনাগুলো মূলত ঐতিহাসিক দলিলে প্রমাণিত নয় এবং গবেষক আলেমগণ এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছেন। ঐতিহাসিক ইবনে হিশামসহ প্রখ্যাত সিরাতগ্রন্থের বর্ণনানুযায়ী, মহানবীর অসুস্থতার শুরু বা স্থায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেলেও নির্দিষ্ট করে সফর মাসের শেষ বুধবারের কথা কোথাও উল্লেখ নেই।বিশেষজ্ঞ আলেমদের স্পষ্ট বক্তব্য হলো, শরিয়তে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনো দিনকে নির্দিষ্ট করে ইবাদত বা উৎসবের রূপ দেওয়া বৈধ নয়।
ইসলামে কোনো আমল বা পদ্ধতি নিজে থেকে তৈরি করে সওয়াবের আশায় পালন করাকে বিদআত হিসেবে গণ্য করা হয়। নবী করিম (সা.)-এর সুনির্দিষ্ট নির্দেশ বা সাহাবিদের আমল না থাকলে সেই আচার পরিহার করাই শরিয়তের বিধান। ফলে আখেরি চাহার সোম্বা পালন সংক্রান্ত প্রচলিত ধারণার পেছনে নির্ভরযোগ্য কোনো হাদিস বা ঐতিহাসিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায় না বলে গবেষকরা মত দিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন