বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ৫ ফল ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে এর উপকারিতা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত ৫ ফল ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে এর উপকারিতা

পবিত্র কুরআনে এমন কিছু ফলমূলের উল্লেখ রয়েছে, যেগুলোর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত কার্যকারিতা আধুনিক বিজ্ঞান দ্বারাও পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে অবতীর্ণ কুরআনে মানুষের শরীরের জন্য উপকারী যেসব ফলের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান পাঁচটি ফলের কার্যকারিতা চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের কাছেও অত্যন্ত মূল্যবান।

সূরা মারিয়ামের পঁচিশ নম্বর আয়াতে মারিয়াম আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘটনায় খেজুরের উল্লেখ পাওয়া যায়। খেজুরে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা, খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে। ফলটি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক ক্লান্তিভাব দূর হয় এবং এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর গ্রহণের মাত্রা সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

আঙ্গুর ফলের কথা উল্লেখ রয়েছে পবিত্র কুরআনের সূরা নাহলের এগারো নম্বর আয়াত এবং সূরা মুমিনুনের উনিশ নম্বর আয়াতে। আঙ্গুরে প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, খনিজ পটাশিয়াম, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন এবং ভিটামিন এ, বি ও সি রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম আঙ্গুর থেকে প্রায় ৪৫০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এই ফল চোখ, ত্বক, হাড় ও হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে থাকা পানি ও খাদ্যআঁশ হজম প্রক্রিয়া সহজ করে।

ডুমুরের নামানুসারে কুরআনে একটি সম্পূর্ণ সূরার নামকরণ করা হয়েছে, যা সূরা আত-তিন নামে পরিচিত। এই সূরার প্রথম আয়াতে ডুমুর ও জয়তুনের শপথ করা হয়েছে। ডুমুর জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। শুকনো ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খাদ্যআঁশ থাকে। এক বা দুটি শুকনো ডুমুর সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেবন করার প্রথা প্রচলিত রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্য ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ উপকারী।

জয়তুনের উল্লেখ রয়েছে সূরা আত-তিনের প্রথম আয়াতসহ সূরা নূরের পঁয়ত্রিশ এবং সূরা মুমিনুনের বিশ নম্বর আয়াতে। জয়তুনের তেলে থাকা স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদস্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসের একটি চমৎকার অংশ হতে পারে। গ্রিক সভ্যতার প্রারম্ভিক কাল থেকেই রন্ধনকার্য ও চিকিৎসাশাস্ত্রে এই তেলের ব্যবহার চলে আসছে।

এ ছাড়া আনার বা বেদানার কথা বলা হয়েছে সূরা আনআমের নিরানব্বই ও একশ একচল্লিশ নম্বর আয়াতে এবং সূরা আর রহমানের আটষট্টি নম্বর আয়াতে। আনারে ভিটামিন, খাদ্যআঁশ এবং পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। এর শিকড়, ছাল ও ফলের খোসা ঐতিহ্যগতভাবে আমাশয় ও উদারাময় রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।