রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

আইনি জটিলতায় নাসির বড় শাস্তির মুখে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

আইনি জটিলতায় নাসির বড় শাস্তির মুখে

বিপাকে ক্রিকেটার নাসির

জাতীয় দলের এক সময়ের নিয়মিত অলরাউন্ডার নাসির হোসেন এখন এক কঠিন আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। আইনিভাবে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার আগেই নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন এই ক্রিকেটার। আদালতের পর্যবেক্ষণে জানা গেছে, যদি এই দম্পতি দোষী প্রমাণিত হন তবে নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা উভয়েরই ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। 

তবে নাসিরের স্ত্রী তামিমা সুলতানা শুরু থেকেই আইনি বিচ্ছেদ না হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং আদালতে নিজের স্বপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির হয়ে এই দম্পতি নিজেদের সম্পূর্ণ নিরপরাধ দাবি করেন এবং আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল মূলত তামিমার আগের স্বামী রাকিব হাসানের দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে। 

২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাকিব হাসান অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে তালাক না দিয়েই তামিমা ক্রিকেটার নাসিরের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এরপর দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই আদালতে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেন। এর ঠিক দুই দিন পর অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি একই আদালতের আদেশে তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। 

তবে এই মামলা থেকে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পিবিআই-এর প্রতিবেদনে রাকিবের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকায় এই আইনি লড়াই নাসিরের জন্য এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।উল্লেখ্য যে ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছিল। 

সেই সময় থেকে বিয়ের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রাকিব হাসানের করা মামলার পর থেকেই এই দম্পতি নিয়মিত আদালত পাড়ায় হাজিরা দিয়ে আসছেন। বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়া যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে নাসিরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।