মার্চ ৩১, ২০২৬, ১১:০৩ এএম
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় তৈরি হওয়া বিতর্কের সব দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন লাহোর কালান্দার্সের জিম্বাবুইয়ান অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। পাঞ্জাব পুলিশের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে রাজা স্পষ্ট করেছেন যে, হোটেল রুমে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে তার ব্যক্তিগত অসাবধানতাই দায়ী ছিল।
এই ঘটনায় অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির কোনো বিশেষ দোষ নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার রাতে, যখন সিকান্দার রাজার সঙ্গে দেখা করতে চারজন দর্শনার্থী হোটেলে আসেন।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে শাহিন ও রাজা তাদের খেলোয়াড়দের সংরক্ষিত ফ্লোরে নিয়ে যান এবং তারা সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন। তবে রাজা এই দাবির বিরোধিতা করে জানিয়েছেন যে, আগত অতিথিরা তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং পরিবারের সদস্য ছিলেন।
টুর্নামেন্টের কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তিনি তাদের ওপরে নিয়ে আসার জন্য অধিনায়কের সাহায্য চেয়েছিলেন। রাজার ভাষ্যমতে, তারা সেখানে মাত্র ৪০ মিনিট অবস্থান করেছিলেন এবং পুরো বিষয়টিই ছিল একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল।অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদির ওপর আসা অশোভন আচরণের অভিযোগও সরাসরি খণ্ডন করেছেন সিকান্দার রাজা। তিনি জানান যে, শাহিন কাউকে কোনো কিছু করতে বাধ্য করেননি কিংবা কোনো শক্তি প্রয়োগ করেননি।
বরং সতীর্থের বিশেষ অনুরোধ রক্ষা করতেই তিনি নিচে নেমেছিলেন। রাজার দাবি অনুযায়ী, তার পরিবার ও বন্ধুদের বিজনেস সেন্টারে দেখা করতে না চাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এটি মূলত দলীয় শৃঙ্খলার অভাব নয় বরং ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লাহোর কালান্দার্স ফ্র্যাঞ্চাইজি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ১০ লাখ রুপি জরিমানা করেছে কর্তৃপক্ষ। কালান্দার্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, শৃঙ্খলার স্বার্থে তারা এই স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণসহ একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকেও (পিসিবি) দেওয়া হয়েছে।
মাঠের পারফরম্যান্সেও বর্তমানে কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফখর জামানের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের তদন্ত এবং এই নিরাপত্তা ইস্যুর মধ্যেই লাহোর কালান্দার্স বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে তাদের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। মাঠের বাইরের এই বিতর্ক এবং জরিমানা আদায়ের বিষয়টি আগামী ডিসিপ্লিনারি হিয়ারিংয়ে কতটুকু প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন