রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

‍‍`ক্রিকেটার বলে বেঁচে গেলাম, সাধারণ মানুষ হলে কী হতো‍‍`

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৩, ২০২৬, ১১:২১ এএম

‍‍`ক্রিকেটার বলে বেঁচে গেলাম, সাধারণ মানুষ হলে কী হতো‍‍`

ক্রিকেটার নাঈম হাসান

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময়ও হয়তো ভাবেননি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে তীব্র লড়াই করতে হবে। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা একজন ক্রিকেটার হয়েও তাকে পুলিশের মুখে শুনতে হয়েছে অগ্রহণযোগ্য কড়া কথা। শুক্রবার রাতে নগরীর লালখানবাজার এলাকায় খুলশী থানা পুলিশের হাতে হেনস্তার শিকার হয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জাতীয় দলের অফ স্পিনার নাঈম হাসান।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এক বড় প্রশ্ন তুলেছেন।থানা থেকে মুক্তির পর একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি ক্রিকেটার বলে বেঁচে গেলাম কারণ আমার পরিচিত মানুষ ছিল, বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন গেছে এবং অনেকে খোঁজ নিয়েছেন। 

কিন্তু এই একই ঘটনা যদি কোনো সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘটত, তাহলে তার আসলে কী হতো? জাতীয় এই ক্রিকেটারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ফেরার পথে লালখানবাজার এলাকায় তাকে আটকে পরিচয় দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই জোরপূর্বক ধাক্কাধাক্কি করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তা কোনোভাবেই আমলে নেয়নি।

পরবর্তীতে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর যখন চারপাশ থেকে একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে, তখন পরিস্থিতির মোড় বদলাতে থাকে এবং পুলিশ বুঝতে পারে তারা ভুল মানুষকে ধরে এনেছে। এই ঘটনার পর নগর পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, একটি সংস্থার দেওয়া চোরাচালানের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে কিছু না জানিয়ে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসআই শফিক এই অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। থানায় আনার পর ক্রিকেটারকে চিনতে পেরে দ্রুত সসম্মানে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তার মালামাল তল্লাশি করেও কোনো অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশের স্পষ্ট ভুলের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট এসআই শফিককে ক্লোজ করা হয়েছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।