রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হ্যারি কেইনের একই পেনাল্টি দুইবার নেওয়ার আসল কারণ ও ফিফার নিয়ম

স্পোর্টস ডেস্ক

জুন ১৯, ২০২৬, ১২:০৮ এএম

হ্যারি কেইনের একই পেনাল্টি দুইবার নেওয়ার আসল কারণ ও ফিফার নিয়ম

ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচে পেনাল্টি কিক নিয়ে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। ম্যাচটিতে তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করার আগে আরও একবার কিক নিয়েছিলেন যা প্রতিপক্ষের গোলকিপার চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন। তবে গোলকিপার সেই কিকটি আটকে দিলেও রেফারি সেটিকে বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় পেনাল্টি নেওয়ার নির্দেশ দেন। হ্যারি কেইন দ্বিতীয়বারের সুযোগে বল জালে পাঠাতে সক্ষম হন।

একই পেনাল্টি দুইবার নেওয়ার পেছনে ফিফার সুস্পষ্ট নিয়ম ও দুটি বড় কারণ ছিল।প্রথম কারণটি ছিল হ্যারি কেইন যখন শট নিচ্ছিলেন তখন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার গোললাইনের বেশ সামনে এগিয়ে এসেছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ম অনুযায়ী পেনাল্টি শট নেওয়ার মুহূর্তে গোলকিপারের অন্তত একটি পা গোললাইনের ওপরে বা লাইনের ভেতরে থাকতে হবে। গোলকিপার যদি লাইনের সামনে চলে আসেন তবে সেই সেভ বা গোল আটকানো বৈধ বলে গণ্য হয় না এবং স্ট্রাইকার পুনরায় কিক নেওয়ার সুযোগ পান। 

ঠিক একই সময়ে দ্বিতীয় আরেকটি বড় ভুল করেন ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডার জোসকো ভার্ডিওল। তিনি হ্যারি কেইন কিক নেওয়ার আগেই দৌড়ে পেনাল্টি সীমানার ভেতরে অনধিকার প্রবেশ করেছিলেন। এই দ্বৈত ভুলের কারণেই রেফারি প্রথম শটটি বাতিল করেন।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সিদ্ধান্ত ও এর নিরপেক্ষতা নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ম্যাচ শেষে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি কেইন নিজেই স্বীকার করেছেন যে এটি তার একটি পূর্বপরিকল্পিত কৌশলগত চাল ছিল। 

তিনি প্রতিপক্ষের গোলকিপারের খেলার ধরন আগে থেকেই গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং জানতেন যে তার একটি বিশেষ অভ্যাস রয়েছে। এই কারণে কেইন তার দৌড়ের গতি আচমকা কমিয়ে দেন যাকে ধারাভাষ্যের ভাষায় ড্রপ স্টেপ বা স্টার্টার রান বলা হয়। কেইনের এই আকস্মিক থমকে যাওয়ার কারণেই মূলত গোলকিপার বিভ্রান্ত হয়ে নিজের পজিশন ছেড়ে সামনে এগিয়ে আসতে বাধ্য হন।বিশ্লেষকদের প্রশ্ন এখানেই যে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি যদি গোলকিপারের ভুলটি ধরতে পারে তবে হ্যারি কেইনের নিয়মবহির্ভূত ড্রপ স্টেপ কেন এড়িয়ে গেল।

কেইনের এই কৌশল গোলকিপারকে নিয়ম ভাঙতে প্ররোচিত করেছিল যা সুষম খেলার নীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। একপাক্ষিকভাবে শুধু গোলকিপার বা ডিফেন্ডারকে দায়ী করে পেনাল্টি পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে নানা কথা চলছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নিয়মের এমন চুলচেরা বিশ্লেষণ ও বিতর্ক ম্যাচগুলোকে দর্শকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তোলে।