জুন ১৯, ২০২৬, ১২:১৪ এএম
ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির করা একটি ফাউল ট্যাকেল নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় মান্ডিকে করা মেসির ওই চ্যালেঞ্জটি সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল। সচরাচর মাঠে মেসিকে এমন আক্রমণাত্মক চ্যালেঞ্জ করতে দেখা যায় না বলে প্রথম দর্শনে অনেক সাবেক কিংবদন্তিও এটিকে লাল কার্ডের ফাউল হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন।
তবে মাঠের রেফারি কিংবা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি কেউই এই ঘটনায় লাল কার্ড দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত বা সংকেত দেননি।মেসির এই ট্যাকেলে লাল কার্ড না দেওয়ার পেছনে ফিফার সুস্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ম সংস্থা আইএফএবি এবং ফিফার প্রোটোকল অনুযায়ী কোনো খেলোয়াড়কে সরাসরি লাল কার্ড দিতে হলে সেই ফাউলকে অবশ্যই গুরুতর বা সিরিয়াস ফাউল প্লে হতে হবে। এই গুরুতর ফাউলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যেখানে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ, প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে জেনেশুনে চরম বিপদে ফেলা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পা দিয়ে মাড়ানো অথবা মারাত্মক বল প্রয়োগের মতো বিষয় উপস্থিত থাকে।
কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে অফিশিয়ালরা পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে এটি কোনো ইচ্ছাকৃত আঘাত বা বেপরোয়া আচরণ ছিল না। বরং খেলার স্বাভাবিক গতি বা মোমেন্টাম এবং পজিশনিংয়ের কারণে এটি একটি অনিচ্ছাকৃত বা আকস্মিক সংঘর্ষ ছিল যাতে কোনো তীব্র আগ্রাসন ছিল না।বিখ্যাত ফরাসি ফুটবলার থিয়েরি অঁরি একটি ম্যাচ বিশ্লেষণ অনুষ্ঠানে এই পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও একটি সাধারণ ফুটবল অ্যাকশন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অঁরি জানান এই ধরনের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার সময় খেলোয়াড়ের আসল উদ্দেশ্য বা ইনটেন্ট অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি।
ঘটনার পুনঃপর্যালোচনা বা স্লো মোশন দেখলে এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে মেসির সম্পূর্ণ মনোযোগ ছিল কেবল বলের দিকে এবং তিনি কাউকে আঘাত করতে চাননি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি এই কারণেই ঘটনার গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে এটিকে হলুদ কার্ড দেওয়ার মতো অপরাধ হিসেবেও গণ্য করেননি। খেলাটি ধীর গতিতে দেখার কারণে অনেক সময় ঘটনাটি যতটা খারাপ দেখায় বাস্তব গতিতে সেটি ততটা মারাত্মক ছিল না।
অতীতের কিছু ঘটনার উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে যখন বল ছাড়া কোনো খেলোয়াড়কে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখে আঘাত করা বা লাঞ্ছিত করা হয় তখন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সরাসরি লাল কার্ডের পরামর্শ দেয়। সাউথ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর একটি ম্যাচে উইদাউট দ্য বল চার্জিং বা বল ছাড়া আঘাত করার কারণে রেফারি লাল কার্ড দিয়েছিলেন। মেসির ঘটনার ক্ষেত্রে বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য লড়াই চলছিল এবং রেফারিদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি একটি সাধারণ মাঠের ঘটনা মাত্র। যেহেতু ঘটনায় মেসি জড়িত ছিলেন তাই বিতর্কটি বড় আকার ধারণ করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত নিয়মের সব মানদণ্ড বজায় রেখেই অফিশিয়ালরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন