জুন ২৫, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
চলমান ফিফা বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে এক অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ইংল্যান্ডের তারকা ফুটবলার জুড বেলিংহাম। তার মতে, গোলশূন্য ড্র হওয়া সেই ম্যাচটিতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে সেরা খেলোয়াড়ের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিটি আসলে ঘানার কোনো ডিফেন্ডারের প্রাপ্য ছিল, তার নয়। ফুটবল অঙ্গনে বেলিংহামের এই সততা ও মন্তব্যের পর বিশ্বজুড়ে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের মনে নতুন করে প্রশ্ন জেগেছে যে বিশ্বকাপের এই ম্যাচসেরা ট্রফি আসলে কারা নির্ধারণ করেন এবং এর প্রকৃত প্রক্রিয়াটি কী।
ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা বেছে নেওয়ার বৈশ্বিক নিয়মটি সাধারণ ক্লাব ফুটবলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।সাধারণত বিভিন্ন ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবলে সরাসরি ধারাভাষ্যকারেরা ম্যাচের গতি ও নৈপুণ্য বিশ্লেষণ করে সেরা খেলোয়াড় বেছে নেন। কিন্তু বৈশ্বিক ফুটবল মহাযজ্ঞে ধারাভাষ্যকারদের হাতে এই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের কোনো একক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা রাখেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা।
ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ফুটবল সমর্থকদের ওপর। ম্যাচের প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার পর থেকে শুরু করে খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজেদের পছন্দের খেলোয়াড়কে সরাসরি ভোট দিতে পারেন।ভোট দেওয়ার জন্য সমর্থকেরা ফিফার নিজস্ব ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন ‘ফিফা প্লে জোন’ এবং তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নির্দিষ্ট পেজে প্রবেশ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফলে অনেক সময় মাঠের নিখুঁত কৌশলগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও সমর্থক গোষ্ঠীর সক্রিয়তার ওপরও এই পুরস্কারের ভাগ্য অনেকাংশে নির্ভর করে। ইতিহাস অনুযায়ী, ফুটবল বিশ্বকাপে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ম্যাচসেরা বা ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার দেওয়ার নিয়মটি চালু হয়েছিল ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপ থেকে। সেই আসরে প্রথম ঐতিহাসিক ম্যাচসেরার ট্রফিটি উঠেছিল সেনেগালের বিখ্যাত ফুটবলার এল হাদজি দিউফের হাতে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশিবার ম্যাচসেরা হওয়ার অনন্য রেকর্ডটি এককভাবে নিজের দখলে রেখেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চলমান আসরেও নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচেই ম্যাচসেরার ট্রফি জিতে বিশ্বমঞ্চে নিজের মোট পুরস্কারের সংখ্যাকে ১৩-তে নিয়ে গেছেন এই কিংবদন্তি। এই তালিকায় মেসির ঠিক পরেই অবস্থান করছেন পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, যিনি পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলে এ পর্যন্ত মোট ৭ বার এই গৌরবের অংশীদার হয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন