রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৮, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু লর্ডসের ঐতিহাসিক ময়দানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তীব্র লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হার এড়াতে পারল না টাইগ্রেসরা।প্রোটিয়াদের কাছে ৪ উইকেটে হেরে টুরনামেন্টের শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড বরাবরই বেশ হতাশাজনক। এবার দুই দলের ১৬তম দেখায়ও সেই চেনা পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারল না লাল-সবুজরা। ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরু থেকেই ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে মারাত্মক চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার জুহাইরিয়া ফেরদৌস শূন্য রানে সাজঘরে ফিরলে দ্রুতই বিদায় নেন আরেক ওপেনার তাজ নেহার। পাওয়ার প্লের প্রথম ৬ ওভারে মাত্র ২৩ রান তুলতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট হারানোই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়।

পরবর্তীতে শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি ৫৬ রানের একটি প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে মোস্তারি ৪৮ বলে ৪২ রান করে আউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দল আবারও চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। শেষ দিকে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ২০ বলে ৩২ রানের একটি অপরাজিত ও ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে ৫ উইকেটে ১১৭ রানের একটি লড়াকু পুঁজিতে পৌঁছে দেন। পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মোট ৬২টি ডট বল খেলেন এবং ২০ ওভারে মাত্র ৮টি চার ও ২টি ছক্কা হাঁকাতে সক্ষম হন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ননকুলুলেকো ম্লাবা ২টি উইকেট নেন এবং শুরুতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন মারিজানে ক্যাপ ও শাবনিম ইস্মাইল।

জবাব দিতে নেমে প্রোটিয়ারা প্রথম বলেই ওপেনার লরা উলভার্টকে হারিয়ে বড় ধাক্কা খায়, যাকে বোল্ড করে দারুণ সূচনা এনে দেন মারুফা আক্তার। তবে তাজমিন ব্রিটস ও অ্যানেরি ডার্কসেন দ্বিতীয় উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ম্যাচের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেন। নাহিদা আক্তারের নিয়ন্ত্রিত স্পিন বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কিছুটা চাপে ফেলা সম্ভব হলেও তারা ৪ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় তুলে নেয়। এই পরাজয়ে চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হারল বাংলাদেশ, যার ফলে নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তানকে হারিয়ে তৈরি হওয়া শেষ চারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা মাটি হয়ে গেল।