রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইউরোপীয় ফুটবলে মুসলিম পরিচয়ের নতুন উত্থান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

ইউরোপীয় ফুটবলে মুসলিম পরিচয়ের নতুন উত্থান

ইউরোপের রাজনীতিতে অভিবাসন ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মাঝে ফুটবলের বড় মঞ্চে এক নতুন বাস্তবতার চিত্র দেখাচ্ছেন মুসলিম ফুটবলাররা। জার্সির নিচে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ্যে তুলে ধরার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করছেন, ইসলাম ইউরোপীয় সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের জার্সি গায়ে খেলা ফুটবলারদের ধর্মীয় উদযাপন ঘিরে সৃষ্টি হচ্ছে নানা বিতর্ক।

স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলের পর সেজদা দিয়ে উদযাপন করলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ইতিপূর্বে বার্সেলোনায় এক প্রীতি ম্যাচের সময় গ্যালারি থেকে বিদ্বেষমূলক স্লোগান শোনা গিয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইয়ামাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি একজন মুসলিম এবং ফুটবল মানুষের বিনোদন ও অনুপ্রেরণার জন্য, কাউকে অসম্মান করার জন্য নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। ইউরোপের কিছু উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে খ্রিস্টান ইউরোপ বনাম বহিরাগত ইসলাম এমন বিভাজনের ধারণা প্রচারের চেষ্টা করছে। অথচ ইতিহাস বলে, খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম উভয়েরই উৎপত্তি ইউরোপের বাইরের একই ভৌগোলিক অঞ্চলে।

ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের অভিজ্ঞতা শুধু ইয়ামালের নয়। জার্মানির ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার রমজানের শুরুতে তাওহিদের প্রতীক হিসেবে আঙুল উঁচিয়ে ছবি পোস্ট করলে বিতর্ক তৈরি হয়। একটি সংবাদপত্রের সাবেক সম্পাদক তাকে উগ্রপন্থি হিসেবে দাবি করলেও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ে সেই মামলা আর এগোয়নি।

একইভাবে সুইডেনের মিডফিল্ডার ইয়াসিন আইয়ারি তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গোলের পর সেজদা দিলে নতুন করে তার জাতীয়তা নিয়ে বিতর্ক উসকে দেওয়া হয়। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইয়াসিন সুইডেনে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা একজন সুইডিশ নাগরিক। তার বাবা আজুজ জানান, যে দেশ তাকে সুযোগ ও নিরাপত্তা দিয়েছে, সেই দেশের জন্য খেলা তার দায়িত্ব এবং এ অর্জনে তারা গর্বিত।