অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের রাতে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আনন্দের চেয়ে আবেগই যেন ভারী হয়ে উঠেছিল। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের পর উৎসবের আবহ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে তা আবেগময় রূপ নেয়। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে যখন প্রিয় অধিনায়ক বিদায়ী বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তার পাশেই দাঁড়িয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন তরুণ সতীর্থ এনজো ফার্নান্দেজ।
চোখের পানি ধরে রাখতে না পারার সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ম্যাচ শেষে এনজো বলেন, দিনটি ছিল তীব্র অনুভূতির এবং এক অদ্ভুত আবেগের দোলাচল। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে অধিনায়ক দিনটি উপভোগ করেছেন এবং তারা সবাই তাকে গভীরভাবে মিস করবেন।
মেসির প্রতি এনজো ফার্নান্দেজের এই গভীর টান ও ভালোবাসা হঠাৎ তৈরি হওয়া কোনো আবেগ নয়। এর পেছনে রয়েছে এক দশকের পুরনো স্বপ্নপূরণের গল্প। মাত্র ১৫ বছর বয়সে কিশোর এনজো মেসিকে নিয়ে একটি আবেগী চিঠি লিখেছিলেন। সে সময় একবার জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি।
তখন কিশোর এনজো হিসাব কষতেন, তার ও মেসির বয়সের ব্যবধান ঠিক কতটা। কখনো কি নীল-সাদা জার্সিতে প্রিয় তারকার পাশে খেলার সুযোগ পাবেন—এমন প্রশ্ন তিনি নিজের মনেই তুলতেন।
পরবর্তীতে সেই স্বপ্ন কেবল সত্যি হয়নি, মেসির হাত ধরেই এনজো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। মেসিকে উদ্দেশ্য করে এনজো লিখেছিলেন, ছোটবেলায় বয়সের ব্যবধান মেলাতে গিয়ে তিনি ভাবতেন কখনো দেশের হয়ে একসাথে নামা সম্ভব কি না।
আদর্শ তারকার সঙ্গে মাঠ ভাগাভাগি করার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু মেসি শুরু থেকেই তাকে কেবল সতীর্থ নয়, আপন করে দলের একজন সদস্যের মর্যাদা দিয়েছিলেন। মেসির সান্নিধ্য ও আন্তরিক পথনির্দেশনার কথা স্মরণ করে এই মিডফিল্ডার জানান, তার একটি ভালো কথা, পরামর্শ, আলিঙ্গন কিংবা কঠিন মুহূর্তে পাশে থেকে স্বস্তি দেওয়ার অনুভূতি তিনি কখনো ভুলবেন না।
আগামীতে ১০ নম্বর জার্সিতে মেসিকে ছাড়া জাতীয় দলের অনুশীলনে নামার বাস্তবতা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে বলে জানান এনজো ফার্নান্দেজ। চিঠির শেষ অংশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি উল্লেখ করেন, সেই কিশোরটি সত্যিই ভাগ্যবান ছিল, যে একদিন হিসাব মেলাত সে মেসির সঙ্গে খেলার সময় পাবে কি না। তাকে আপন করে নেওয়া, নানা কিছু শেখানো এবং ইতিহাসের অংশ হওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য অধিনায়ককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন