সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘ফুটবলে নব্বইয়ের উন্মাদনা ফিরিয়ে এনেছি’: ক্রীড়া উপদেষ্টা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৫, ১১:৪৩ এএম

‘ফুটবলে নব্বইয়ের উন্মাদনা ফিরিয়ে এনেছি’: ক্রীড়া উপদেষ্টা

বাংলাদেশে নব্বইয়ের দশকে ফুটবলের যে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও উন্মাদনা ছিল, তা আবার ফিরে এসেছে বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তারা সেই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি করেন।

একসময় ঘরোয়া ফুটবলের ম্যাচ ঘিরেও দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। সময়ের পরিক্রমায় ক্রিকেটের উত্থানে ফুটবল সেই জনপ্রিয়তা হারায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামজা চৌধুরী, ফাহমিদুল হক, শমিত সোমের মতো খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি এবং দলের পারফরম্যান্সে কিছুটা উন্নতির পর ফুটবলের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। জাতীয় দলের ম্যাচগুলোতে এখন গ্যালারিভর্তি দর্শক দেখা যায়, টিকিটের জন্য হাহাকার পড়ে যায়, যা নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয়।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আসলে ফুটবল যে পর্যায়ে ছিল, সেখান থেকে এক বছরে খুব বেশি যাচাই করার সুযোগ নেই। কারণ, এক বছর আগে আমরা কোথায় ছিলাম আর এক বছর পরে কোথায় আছি, সেটাই যদি আপনারা একটু পর্যালোচনা করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আসলে বাফুফে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে ফুটবলে আমরা নব্বই দশকের উন্মাদনা, সেটা আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন গ্যালারিভর্তি মানুষ থাকেন। বাইরেও থাকেন, ঢুকতে পারেন না এমন। দর্শকদের এই ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি।’

তবে উপদেষ্টা এটাও মনে করিয়ে দেন যে, রাতারাতি বড় সাফল্য আশা করা ঠিক নয়। তিনি খেলার মানের উন্নতির কথা স্বীকার করে বলেন, ‘অবশ্যই খেলা অনেক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশে উইং থেকে ক্রস এটা আমরা দেখিনি। আমাদের খেলার উন্নয়ন হয়েছে। তবে সাফল্য আসতে সময় লাগবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বে যারা ভালো ফুটবল খেলে, তারা দীর্ঘ ১০ থেকে ২০ বছর ধরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই পর্যায়ে এসেছে। বাংলাদেশেও সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়েই এগোতে হবে বলে তিনি মনে করেন।