রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর ছেলের প্রথম গোল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২, ২০২৫, ১২:১৪ পিএম

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর ছেলের প্রথম গোল

কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উত্তরসূরি যেন তার বাবার পথেই হাঁটছেন। ১৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র পর্তুগালের অনূর্ধ্ব–১৬ জাতীয় দলের হয়ে তার প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন। তুরস্কের উপকূলীয় শহর আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত ফেডারেশনস কাপের এক ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করে বাবার পথ অনুসরণ করলেন এই তরুণ তুর্কি।

জুনিয়রের করা গোলেই ম্যাচে লিড নেয় পর্তুগাল, যা শেষ পর্যন্ত ৩–০ ব্যবধানে জয়ে রূপ নেয়। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে কার্লোস মোইতা একটি নিখুঁত থ্রু–পাস বাড়ান। সেই পাস থেকেই ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র ডান পায়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান। দলের হয়ে বাকি গোল দুটি করেন রাফায়েল ক্যাব্রাল, একটি ৬৫তম মিনিটে এবং অপরটি ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে।

এই জয়ের মাধ্যমে ফেডারেশনস কাপে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল পর্তুগাল অনূর্ধ্ব–১৬ দল। এর আগে প্রথম ম্যাচে তারা স্বাগতিক তুরস্ককে ২–০ গোলে হারিয়েছিল। তবে আসরজুড়ে সবার নজর ছিল এক তরুণের দিকেই—‘ক্রিস্টিয়ানিনহো’, যিনি ধীরে ধীরে “রোনালদোর ছেলে” এই পরিচয়ের বাইরে নিজের একটি স্বতন্ত্র নাম তৈরি করতে শুরু করেছেন।

ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রের ফুটবল শিক্ষার পথটিও তার বাবার মতোই আন্তর্জাতিক। তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের বয়সভিত্তিক দলে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের ক্লাব আল–নাসরের একাডেমিতে খেলছেন, যে ক্লাবের সিনিয়র দলে খেলছেন তার বাবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।পুত্রের প্রতিভা নিয়ে রোনালদো সিনিয়র সবসময়ই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও, তিনি ছেলের ওপর চাপ না দেওয়ার বিষয়েও বেশ সচেতন। এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন, ‘সে (জুনিয়র) অনেক প্রতিযোগিতামূলক, ছোটবেলায় আমিও ঠিক এমন ছিলাম। সে হারতে একদম পছন্দ করে না।

আমি ওর ওপর অতিরিক্ত চাপ দিই না, কারণ সে ইতিমধ্যেই ‘ক্রিশ্চিয়ানোর ছেলে’ হওয়ার একটি বিশাল চাপের মধ্যে আছে। ওর ভুল করার সুযোগ থাকুক—আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে সে একজন পেশাদার খেলোয়াড় হয়ে উঠুক।’এ বছরই ক্রোয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ভলাতকো মার্কোভিচ টুর্নামেন্টে পর্তুগালের অনূর্ধ্ব–১৫ দলের হয়ে দুই গোল করে দলকে শিরোপা জেতাতেও বড় ভূমিকা রেখেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র।

বাবার কিংবদন্তিতুল্য উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ কাজ নয়। ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা (২২৫ ম্যাচে ১৪৩ গোল) ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালকে ইউরো ২০১৬ এবং নেশন্স লিগের ২০১৯ ও ২০২৫ আসরের শিরোপা এনে দিয়েছেন। তাই জুনিয়রের তুলনা অবধারিতভাবেই বাবার সঙ্গে হবে। তবে আনতালিয়ায় করা তার এই প্রথম গোল যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে—নিজের পথচলা তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই শুরু করেছেন।