রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নওগাঁর সীমান্তঘেষা গ্রাম হাটশাওলীতে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর ও আধুনিক আম চাষ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ৩, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম

নওগাঁর সীমান্তঘেষা গ্রাম হাটশাওলীতে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর ও আধুনিক আম চাষ

নওগাঁ জেলা সদরের প্রায় পঁয়ষট্টি কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে পত্নীতলা উপজেলার নির্মইল ইউনিয়নের একটি সীমান্তঘেষা জনপদ হাটশাওলী গ্রাম। প্রায় ছত্রিশ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই গ্রামের একপাশে বাংলাদেশের নির্মইল ইউনিয়ন এবং অন্যপাশে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সাদুল্লাপুর সীমান্তরেখা অবস্থিত। বাড়ি থেকে তাকালেই কাঁটাতার ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চৌকি নজরে আসে।

ধানের পাশাপাশি আম চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানকার কৃষিভিত্তিক দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যাচ্ছে।গ্রামের প্রধান আকর্ষণ প্রাচীন স্থাপত্যরীতির ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর। একতলা বাড়ির চেয়ে এখানে দোতলা মাটির বাড়ির সংখ্যাই বেশি। দুই থেকে তিন ফুট উঁচু ভিটার ওপর আঠালো এঁটেল মাটির ব্লক গেঁথে বিশ থেকে ত্রিশ ইঞ্চি চওড়া দেয়াল তৈরি করা হয়। পরিবেশবান্ধব এসব বাড়ি গরমে ঠান্ডা এবং শীতে উষ্ণ থাকে এবং বন্যা বা বড় ভূমিকম্প না হলে শতাধিক বছর টিকে থাকতে পারে।

কৃষিকাজের পাশাপাশি পশুপালন এখানকার মানুষের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস। প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে গবাদি পশু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি পালনের রেওয়াজ রয়েছে। দোতলা বাড়ির কার্নিশের নিচে ঝুলন্ত ঝাঁকায় সযত্নে কবুতর পালন করা হয়। এছাড়া গ্রামের প্রাণকেন্দ্রে বিশাল তেঁতুল গাছে সাদা বক ও কালো পানকৌড়ির আবাসস্থল পরিবেশকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

সীমান্ত প্রহরার সুবিধার্থে উত্তর-পূর্ব প্রান্তে আমবাগান করার সুযোগ না থাকায় সেখানে বৃষ্টি-নির্ভর ধানের চাষ হয়। তবে গ্রামের অন্য অংশগুলো মূলত আমবাগানে ঘেরা এবং এখানকার আবহাওয়া আম চাষের জন্য দারুণ উপযোগী। ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ও বৃষ্টির হাত থেকে আম রক্ষা করতে চাষিরা আধুনিক কার্বোরাইজড ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার করছেন, যা আমের গুণগত মান অক্ষুণ্ন রাখে।

পত্নীতলা উপজেলার এই গ্রাম থেকে প্রতি মৌসুমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যেও আম রপ্তানি হয়। নওগাঁ জেলার বাৎসরিক বিশাল আম বাণিজ্যে হাটশাওলী গ্রামের কৃষকদের অবদান উল্লেখযোগ্য।