মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,

কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি: তেঁতুলিয়া থেকে হিমালয়ের অপরূপ দৃশ্য ও ভ্রমণ গাইড

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৯, ২০২৫, ০৩:৪৭ পিএম

কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি: তেঁতুলিয়া থেকে হিমালয়ের অপরূপ দৃশ্য ও ভ্রমণ গাইড

ছবি-দিনাজপুর টিভি

বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতশৃঙ্গের অপরূপ সৌন্দর্য দেখা একটি অনন্য অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে শরতের শেষ দিকে যখন আকাশ ঝকঝকে নীল থাকে। প্রকৃতিপ্রেমী এবং ভ্রমণকারীরা এই সময়টাতে বাংলাদেশের শেষপ্রান্তে ছুটে যান হিমালয়ের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে। ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়া যাওয়ার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় হলো ট্রেন।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস একতা অথবা দ্রুতযান এক্সপ্রেসে করে সরাসরি পঞ্চগড় স্টেশনে নামা যায়। প্রায় ৪১২ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে, যেখানে শোভন চেয়ারের ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৫৫০ টাকা, এসি চেয়ার ১০৫০ টাকা এবং ফার্স্ট ক্লাস বার্থ ২০০০ টাকা। তবে, ট্রেন যাত্রায় স্টেশনে পকেটমারদের থেকে সতর্ক থাকতে হয়।

যারা বাসে যেতে চান, তারা নন-এসি বাসে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকায় সরাসরি পঞ্চগড় যেতে পারবেন। এই সময়ে পঞ্চগড়ে ঠান্ডার প্রকোপ বেশি থাকে, তাই পর্যাপ্ত শীতের কাপড় সাথে রাখা জরুরি। পঞ্চগড় স্টেশনে নেমে অটো বা রিকশা নিয়ে স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখা যায়। মির্জাপুর শাহী জামে মসজিদ যার সম্পর্কে প্রত্বতত্ত্ববিদরা মনে করেন ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দে এটি মোঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল, যদিও এর নির্মাতা সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

অতীতে একটি ভূমিকম্পে মসজিদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, ইরান থেকে লোক এনে এর সংস্কার করা হয়েছিল। মসজিদের পাশেই রয়েছে ইমামবাড়া হোসাইনী দালান নামের একটি প্রাচীন স্থাপনা। মির্জাপুর থেকে তেঁতুলিয়া যাওয়ার জন্য অটোতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া লাগে, যা পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টার মতো সময় নেয়।

তেঁতুলিয়া থেকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ পাওয়া যায় জেলা পরিষদ ডাকবাংলো থেকে, কারণ এটি একটি উঁচু স্থানে অবস্থিত। এখানে চাইলে ৮০০ টাকা খরচ করে রাত্রিযাপনও করা যায়। ডাকবাংলোর আশেপাশে রয়েছে অসংখ্য চা বাগান, যা পঞ্চগড়কে চা শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। এই চা বাগানগুলোর পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে ভারতের তারকাঁটা সীমান্ত, যেখানে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদেরও দেখা মেলে। তেঁতুলিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর একটি হলো বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, যা বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত নির্দেশ করে।

এখানে পৌঁছাতে তেঁতুলিয়া সদর থেকে অটোতে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যার ভাড়া পড়ে জনপ্রতি ২০ টাকা। জিরো পয়েন্টে ইন্ডিয়ার তারকাঁটার ওপারে ভারতের মানুষ পাথর সংগ্রহ করে, আর এপাশে বাংলাদেশের মানুষও একই কাজ করে। এখানে নানা ধরনের পাথর দেখা যায়, যার মধ্যে কিছু গল্ফ বলের মতো দেখতেও রয়েছে। বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টের ওপারে ভারতের গেট ও জাতীয় পতাকাও দেখা যায়।

তবে জিরো পয়েন্টে বিকেল ৫টার পর প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। দিনের শেষে, তেঁতুলিয়ার স্থানীয় বাজার থেকে গরম গরম সিঙ্গারা ও অন্যান্য খাবার উপভোগ করা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। পঞ্চগড়ের এই সরল মানুষের জীবনযাত্রা এবং প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য যেকোনো ভ্রমণপিপাসুকে মুগ্ধ করবে।