নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৯:২৪ পিএম
দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এখন থেকে একই সঙ্গে আর্টিমিয়া ও লবণ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের গবেষকরা আর্টিমিয়া ও লবণের সমন্বিত চাষের নতুন এই সম্ভাবনা উন্মোচন করেছেন যা দেশের মৎস্য খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
এত দিন লবণ চাষীরা লবণ এবং মৎস্য পোনার অত্যন্ত পুষ্টিকর জীবন্ত খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত লবণজলীয় ক্ষুদ্র প্রাণী আর্টিমিয়া আলাদাভাবে চাষ করতেন।
গবেষকরা বলছেন উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষীরা এখন একই স্থানে একইসঙ্গে সমন্বিত পদ্ধতিতে আর্টিমিয়া এবং লবণ চাষ করে দ্বিগুণেরও বেশি আয় করতে পারবেন।
এই সমন্বিত আর্টিমিয়া চাষের মাধ্যমে আর্টিমিয়া বায়োমাস সিস্ট আর্টিমিয়া ফ্লেক ও গুণগতমান সম্পন্ন লবণ উৎপন্ন করা যায়। এর পাশাপাশি আর্টিমিয়া বায়োমাস ও সিস্ট উৎপাদনে দেশের চাহিদা পূরণ হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। গবেষকরা আরও বলছেন আর্টিমিয়া ফিল্টার ফিডার হিসেবে পানিতে দ্রবীভূত বর্জ্য আত্তীকরণ করে বিধায় আর্টিমিয়া চাষে ব্যবহৃত লবণ পানি থেকে উৎপাদিত লবণ প্রচলিত পদ্ধতিতে উৎপাদিত লবণের চেয়ে অধিক পরিষ্কার এবং অধিক গুণগত মানসম্পন্ন হয়ে থাকে।
গবেষকরা আশা করছেন স্থানীয় পর্যায়ে এই পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ টেকসই মৎস্য উৎপাদনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং 'ব্লু ইকোনোমি' বাস্তবায়নে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট এর অর্থায়নে এই গবেষণা প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের জুনে। সম্প্রতি গবেষণা প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করে তারা 'মাঠ পর্যায়ে আর্টিমিয়া ও লবণ এর সমন্বিত চাষ সহায়িকা’ নামের একটি সহায়িকা প্রকাশ করেছেন।
প্রকল্পটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। গবেষণা সহকারী আলম পারভেজ জানান দেশের কৃত্রিম মৎস্য ও চিংড়ি প্রজনন কেন্দ্রসমূহে আর্টিমিয়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে কিন্তু এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তিনি বলেন লবণাক্ত পানিতে উৎপাদিত আর্টিমিয়া জীবন্ত অবস্থায় পোনা মাছকে খাওয়ানো যায় আবার প্রাপ্তবয়স্ক আর্টিমিয়ার বায়োমাস ব্যবহার করে পরবর্তীতে খাদ্য হিসেবে আর্টিমিয়া ফ্লেকও তৈরি করা যায়।
গবেষণা প্রকল্পের প্রধান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম জানান এই গবেষণা প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ গত জুলাইয়ে শেষ হয়েছে এবং তারা চাষীদের লবণমাঠেই আর্টিমিয়া ও লবণ একত্রে চাষের পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তিনি বলেন দেশের প্রায় ৭০০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় সমন্বিতভাবে এই চাষ চালু করা গেলে তা আমাদের ব্লু ইকোনমির লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা পালন করবে। তিনি আশা করেন সরকারি প্রণোদনা পেলে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বায়োমাস সিস্ট ও ফ্লেক উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে পারলে এটি সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিণত হবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন