রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

খাদ্য অপচয় রোধে নওগাঁর সোহেল রানার সাফল্য: স্মার্ট ড্রায়ার প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৭:৩৪ পিএম

খাদ্য অপচয় রোধে নওগাঁর সোহেল রানার সাফল্য: স্মার্ট ড্রায়ার প্রযুক্তিতে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ফল ও শাকসবজি নষ্ট হয় খাদ্য সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থার অভাবে, যার ফলে কৃষকরা বাধ্য হন কম দামে পণ্য বিক্রি করতে, অথবা জমিতেই নষ্ট হয়ে যায়, এমনকি গত বছর গরুকে ফুলকপি খাওয়ানোর মতো ঘটনাও এই খাদ্য অপচয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরেছিল|

 কিন্তু এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ দেখাচ্ছেন নওগাঁর সাপাহারের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা, যিনি পরিচয় করিয়েছেন সৌরবিদ্যুৎ চালিত 'স্মার্ট ড্রায়ার' নামক একটি আধুনিক প্রযুক্তির সাথে|

 দেখতে ছোট ঘরের মতো হলেও এই স্মার্ট ড্রায়ারে একসঙ্গে ৫০০ কেজি পর্যন্ত খাদ্যপণ্য শুকানো সম্ভব এবং এর ভেতরে থাকা আটটি হিটার ফ্যান ও দুটি কুলিং ফ্যান সমানভাবে তাপ ছড়িয়ে ফল |

ও সবজি থেকে দ্রুততার সাথে পানি বের করে দেয়, যেখানে একটি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যা দ্বারা বাইরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, এবং ভেতরে পণ্যের প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখা সম্ভব। সোহেল রানা শুরুতে আম শুকিয়ে সংরক্ষণের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেন, কারণ নওগাঁতে প্রতি বছর প্রায় ১০০০ কোটি টাকারও বেশি আম কাঁচা-পাকা অবস্থায় বা ঝরে পড়ে নষ্ট হয়|

 তবে পরবর্তীতে তিনি টমেটো, ফুলকপি, মরিচ, বিটরুট, কলা, বরই, আদা, অর্জুন গাছের ছাল এবং ফেলে দেওয়া কলার খোসার মতো পণ্যও এতে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা শুরু করেন।

থাইল্যান্ডে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তিনি দেখেছিলেন যে ছোট ছোট উদ্যোক্তারাও ঘরে ঘরে ইলেকট্রিক বা স্মার্ট ড্রায়ারের মাধ্যমে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করছে, যা তাকে এই উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করে। এই প্রক্রিয়ায় খাদ্যপণ্য সম্পূর্ণ শুকিয়ে তিন থেকে পাঁচ শতাংশ আর্দ্রতা রেখে এরপর মেকানিক্যাল মিলিং মেশিনে সেগুলোকে পাউডারে রূপান্তরিত করা হয়, যার অনলাইনে দারুণ চাহিদা রয়েছে। এই প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে তিনি নিজের বাগান ও এলাকার ফল,

সবজি ও ভেষজ আইটেমগুলির অপচয় রোধ করতে চান, মূল্য সংযোজন করতে চান এবং ভবিষ্যতে এগুলো বিদেশে রপ্তানি করারও সুযোগ তৈরি করতে চান, পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতেও সহায়তা করতে চান; কারণ অনেক ভেষজ আইটেম বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

সোহেল রানা অনলাইনে লেখাপড়া করে প্রথমে স্মার্ট ড্রায়ারের ধারণা পান এবং পরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানার সহযোগিতায় তার বাগানে এই আধুনিক প্রযুক্তি ঘরটি স্থাপন করেন। সাপাহার যেহেতু প্রচুর আম উৎপাদনকারী এলাকা,

আমের ভরা মৌসুমে যখন দাম কম থাকে, তখন এই আম প্রক্রিয়াজাত করে পাউডার বা জ্যাম-জেলি তৈরি করা গেলে পরবর্তীতে উচ্চ দামে বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। একটি স্মার্ট ড্রায়ার স্থাপন করতে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা খরচ হয়,

যা সঠিকভাবে পরিচালনা করলে কয়েক বছরের মধ্যেই পুরো বিনিয়োগ ফেরত আনা সম্ভব, এবং এই প্রকল্পটি স্থানীয়ভাবে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে, যেখানে কর্মরতরা অর্গানিকভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ শিখছেন এবং তাদের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে পরিবার চালাচ্ছেন, যা সামগ্রিকভাবে খাদ্য অপচয় রোধে ও কৃষিপণ্যের বিকল্প ব্যবহার নিশ্চিত করতে নতুন পথ খুলে দিতে পারে।