রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আলুর বাম্পার ফলন: উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি করে কৃষকের মাথায় হাত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ০৮:৩৩ পিএম

আলুর বাম্পার ফলন: উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বিক্রি করে কৃষকের মাথায় হাত

চলতি বছর আলুর বাজারে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও দেশের প্রধান আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী এবং রংপুর জেলার কৃষকদের জন্য তা চরম হতাশা ও লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে; কারণ গেল বছর যে আলু এসময় প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল|

এ বছর রাজধানীর বাজারেই তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকায়। কৃষকরা জানান, চলতি বছর প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা|

 যার মধ্যে ১২০ টাকা কেজি দরে আলুর বীজ কেনা, প্রতি বস্তা সারের জন্য ২২০০ টাকা খরচ এবং শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা প্রদানসহ সেচ ও অন্যান্য খরচ সবকিছুই ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

এত চড়া দামে উৎপাদন করার পরও বর্তমানে হিমাগার থেকে সেই আলুই তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে, যা উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, এমনকি হিমাগারের ভাড়াও উঠছে না বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান। যে কৃষক ভালো দামের আশায় কেজিপ্রতি দুই থেকে তিন টাকা লাভের হিসাব কষেছিলেন|

 তারা এখন প্রতি কেজিতে আট থেকে ১০ টাকা লোকসান গুনছেন এবং তাদের চোখে মুখে এখন শুধুই হতাশার ছাপ, ফলে তারা বলছেন সরকার দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে আলু চাষের উৎসাহই হারিয়ে ফেলবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে আলুর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টন, যেখানে সারা বছরে দেশের আলুর চাহিদা থাকে প্রায় ৯০ লাখ টন, সেই হিসেবে এবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ লাখ টন আলু অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই বছর আলুর ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এবার আলু চাষে বেশি ঝুঁকেছিলেন, যার ফলে এই বাম্পার ফলন হয়েছে এবং এই অতিরিক্ত উৎপাদনই কৃষকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকরা আরও বলেন যে, এই পরিস্থিতির জন্য কৃষকদের চেয়ে সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং অব্যবস্থাপনাই বেশি দায়ী, কারণ সরকারের কাছে দেশে কি পরিমাণ আলু উৎপাদন করা প্রয়োজন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল এবং যদি অতিরিক্ত উৎপাদন হয়েই যায় তবে সেই অতিরিক্ত আলু রপ্তানি করে বা অন্য কোনো উপায়ে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা কিংবা কৃষকদেরকে সাপোর্ট প্রাইস বা ভর্তুকি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারেরই ছিল।

এই বিপুল লোকসানের মুখে পড়ে কৃষকরা যেহেতু আলু চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, তাই বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে আগামী মৌসুমে চাহিদার বিপরীতে আলুর উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে আবারো আলুর বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।