রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঘোড়াঘাটে আলুর দামে ধস: দিশেহারা স্থানীয় কৃষক

ফাহিম হোসেন রিজু

ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

ঘোড়াঘাটে আলুর দামে ধস: দিশেহারা স্থানীয় কৃষক

ঘোড়াঘাটে আলুর দামে ধস :ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় আলুর বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা দরে। চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় বিনিয়োগ হারানোর চরম শঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয় কৃষকদের। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে সার, বীজ, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি বাবদ গড়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। 

অথচ বর্তমান বাজার দরে এক বিঘা জমির আলু বিক্রি করে খরচের অর্ধেক টাকাও তোলা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চাষীরা।উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা জানান, অনেক আশা নিয়ে তারা এবার আলুর আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করলে মাঠ থেকে তোলার শ্রমিকের মজুরিও উঠছে না। 

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক কৃষক আলু মাঠ থেকে তুলবেন নাকি মাঠেই পচতে দেবেন তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, যেখানে বিঘা প্রতি ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, সেখানে মাত্র ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার আলু বিক্রি করে তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

 অধিকাংশ কৃষক দেনা শোধ করার পরিকল্পনা নিয়ে চাষাবাদ করলেও এখন মূলধন হারানোয় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে আলুর অতিরিক্ত সরবরাহ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত হিমাগার বা কোল্ড স্টোরেজের অভাব এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।হিমাগারে জায়গা না পেয়ে অনেক চাষী বাধ্য হয়ে নামমাত্র মূল্যে মাঠেই আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন। 

আবার কেউ কেউ লোকসান এড়াতে খেতেই আলু রেখে দিচ্ছেন।এই চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারিভাবে সরাসরি আলু ক্রয় অথবা বিদেশে আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। সেই সাথে আগামীতে আলু চাষে কৃষকদের টিকিয়ে রাখতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার দাবিও তুলেছেন স্থানীয় বিভিন্ন কৃষি সংগঠন।