নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৭:৪৪ পিএম
বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সবজি সিম চাষে কৃষকরা ব্যাপক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কারণ এটি কম সময়ে ভালো ফলন দেওয়ায় বাজারের দামও বেশ ভালো পাওয়া যায়; বিশেষত আগাম জাতের সিম চাষে খুব অল্প খরচে প্রতি শতকে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব|
যেখানে সকল খরচ বাদ দিয়েও নিট মুনাফা ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত থাকে এবং এক একর জমিতে এই লাভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকারও বেশি|
ফলে সিম এখন গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। আগাম জাতের সিম চাষের মূল রহস্য হলো সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সঠিক বীজ বপন|
যার ফলে নভেম্বরের শেষ দিক থেকেই ফলন বাজারে বিক্রি করা সম্ভব হয়, যখন দাম থাকে সবচেয়ে বেশি। জমি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে উঁচু এবং পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থাযুক্ত দোআঁশ বা বেলেদোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত; প্রথমে একাধিক চাষ দিয়ে জমি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে এবং প্রতি শতকে দুই কেজি জৈব সার, আধা কেজি টিএসপি এবং সামান্য ছাই মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে।
বীজ বপনের সময় প্রতিটি গর্তে দুই থেকে তিনটি বীজ দিতে হবে এবং গাছের দূরত্ব দেড় ফুট ও সারির দূরত্ব দুই ফুট রাখতে হবে; যারা অল্প খরচে চাষ করতে চান তারা বাঁশের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে ঝাউ গাছ বা খেজুর পাতার খুঁটি ব্যবহার করে খরচ অনেক কমিয়ে আনতে পারেন।
বীজ অঙ্কুরোদগমের পর প্রথম বিশ দিন গাছের চারপাশের আগাছা তুলে দিতে হবে এবং মাটির আদ্রতা বজায় রাখতে হালকা সেচ দিতে হবে, তবে গাছের গোড়ায় পানি জমে গেলে মূল পচে যেতে পারে বিধায় সেচ দেওয়ার সময় সাবধান থাকতে হবে। সার ব্যবস্থাপনায় প্রথমবার সার দেওয়ার পঁচিশ দিন পর পর সামান্য পরিমাণে ইউরিয়া ও এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে, যার মধ্যে একবার ফুল আসার আগে এবং আরেকবার ফল ধরার সময় দেওয়া সবচেয়ে ভালো।
সিমের ফুল আসার সময় পোকা-মাকরের আক্রমণ সবচেয়ে বেশি হয়, বিশেষ করে এফিড বা পাতার উকুন এবং ফল ছিদ্রকারী পোকা গাছের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে; এক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে গাছের উপর নিমপাতা ও মরিচের নির্যাস স্প্রে করলে ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে জৈব কীটনাশক ব্যবহার করলে সিম নিরাপদ ও বিষমুক্ত হয়।
গাছে ফুল আসার পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি এবং ফুল ঝরে গেলে বা পাতা পুড়ে গেলে মাটিতে পুষ্টির ঘাটতি হয়েছে বুঝতে হবে, তখন সামান্য ইউরিয়া পানিতে গুলে স্প্রে করলে গাছ নতুন করে ফুল দিতে শুরু করে। বীজ বপনের ষাট থেকে সত্তর দিনের মধ্যে সাধারণত ফল সংগ্রহ শুরু হয়; বাড়ি এক সিম, বিনা সিম, কেরালা সিম, জারি সিম, শাড়ি সিম ইত্যাদি আগাম জাত থেকে শতকে পঁচিশ থেকে ত্রিশ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়; নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে প্রতি কেজি সিম সত্তর থেকে নব্বই টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়।
সফল সিম চাষের জন্য সঠিক জাত নির্বাচন, সঠিক সময়ে বীজ বপন ও সার প্রয়োগ এবং গাছের রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজর রাখা—এই তিনটি বিষয় মনে রাখলে একজন কৃষক অল্প খরচে নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রির মাধ্যমে লাভবান হতে পারেন, পাশাপাশি সিম চাষ মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা করে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন