অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ০৮:২১ পিএম
সিম চাষ বর্তমানে কৃষকদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠেছে, কারণ এর বাজার চাহিদা বেশি এবং দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সিম চাষের জন্য দোয়াস ও বেলেদোয়াস মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত, তবে খেয়াল রাখতে হবে জমিতে যেন পানি না জমে।
জমি তৈরির সময় বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ টন পচা গবর সারের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি সার মিশিয়ে দুই থেকে তিনবার চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হয়।
আশ্বিন থেকে কার্তিক মাস সিম বপনের আদর্শ সময় হলেও কেরালা সিমের মতো বারোমাসি জাতও রয়েছে, যা সারাবছর চাষ করা যায়। অন্যান্য জনপ্রিয় জাতের মধ্যে অটো সিম, জারি শাড়ি, ইস্পা সিম এবং বারি সিম উল্লেখযোগ্য। বীজ বপনের আগে ১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে অঙ্কুরোদগম দ্রুত হয়, প্রতিটি গর্তে দুটি করে বীজ দেড় থেকে দুই ফুট দূরত্বে রোপণ করতে হয়।
চারা ১০-১২ দিনের হলে মাচা তৈরি করে দিতে হয় এবং চারা লাগানোর ২০ দিন পর ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। গাছে ফুল আসার আগে আরেকবার সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়ে। সিম গাছে ফলছিদ্র পোকা ও এফিডের আক্রমণ হতে পারে, যা দমনে প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। সাধারণত রোপণের ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সিম সংগ্রহ শুরু হয় এবং এক বিঘা জমিতে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ করে ২৫ থেকে ৩০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, যা বিক্রি করে ৫০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এই হিসাবে, প্রতি বিঘায় নিট লাভ ২৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা সঠিক পরিচর্যায় আরও দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন