নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ০১:২০ পিএম
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় চলতি আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং উপজেলা কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শের ফলে এবার ফলন আশানুরূপ হওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন খুশির ঝলক দেখা দিয়েছে। বর্তমানে উপজেলার মাঠজুড়ে পুরোদমে চলছে ধান কাটা এবং মাড়াইয়ের ব্যস্ততা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ১ হাজার ৭৫৪ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে চাষের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, মোট ১ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাকিল খন্দকার বলেন, ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর জন্য চাষিদের নতুন নতুন জাতের ধান চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিআর-২২, বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪৮-৪৯ সহ হাইব্রিড ও উফসী জাতের পাশাপাশি স্থানীয় জাতের আমনেরও চাষ হয়েছিল। সব জাতেরই ধানের ফলন এবার আশানুরূপ হয়েছে। কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, রোগবালাই কম থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।
৩নং দক্ষিণ আলগী ইউনিয়নের পূর্বচর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ ব্যাপারী মাঠে ধান মাড়াই করতে গিয়ে জানান, আমন ধানের ফলন এবার বাম্পার হয়েছে। তিনি আশানুরূপ দাম পেলে আরও বেশি খুশি হতেন, তবে ভালো ফলন হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট। একই গ্রামের আরেক কৃষক দুলাল আখন বলেন, তিনি ৭০ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করে গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণে ফসল পেয়েছেন।
অন্যদিকে, ২নং আলগী দূর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের লামচর গ্রামের কৃষক তনু ব্যাপারী এবং নয়ানী লক্ষীপুর গ্রামের নুরু মুন্সি বাম্পার ফলনে খুশি হলেও সারের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, সারের দাম কমালে কৃষকদের জন্য আরও উপকার হবে। বর্তমানে হাইমচরের কৃষকের মাঠে ধান মাড়াইয়ের ব্যস্ততা তুঙ্গে। বাম্পার ফলনের এই আনন্দ নিয়ে কৃষকরা এখন শুধু ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন