রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দিনাজপুরে ৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৫, ২০২৫, ১১:০২ পিএম

দিনাজপুরে ৪৭ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা

চলতি রবি মৌসুমে দেশের অন্যতম কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী জেলা দিনাজপুরে বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলু চাষ শুরু হয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় মোট ৪৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন গতকাল সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছেন, যাতে এবার আলু চাষে বাম্পার ফলন অর্জিত হয়।

রবি মৌসুমে অন্যান্য সবজি জাতীয় ফসল লাগানোর পাশাপাশি কৃষকদের আলু চাষে আগ্রহী করতে অধিক ফলনের আলুর বীজ বপনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের দাবি, আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই জেলার বাজারগুলোতে নতুন আলু বাজারজাত করার লক্ষ্য নিয়ে তারা বর্তমানে ক্ষেতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে নতুন আলু উঠাতে পারলে তুলনামূলকভাবে আলুর মূল্য একটু বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা মনে করেন।সূত্রটি জানায়, গত ২০ অক্টোবর থেকে জেলার ১৩টি উপজেলায় আগাম জাতের গোল্ডেন, গ্যানোলা ও কারেজ আলু বীজ লাগানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই এই আগাম জাতের আলু ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাজারে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।নভেম্বর মাস থেকে আগামী বছর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কৃষকেরা ভ্যারাইটি জাতের আলুর বীজ জমিতে লাগাবেন। আমন ধান কাটার পর অতিরিক্ত ফসল হিসাবে ডিসেম্বর মাস থেকে ওই জমিতে আলু চাষ শুরু হয়। কৃষকেরা জমি প্রস্তুত করে ডায়মন্ড, কার্টিলাল, স্টারিজ, দেশী জাতের চল্লিশা, রোমানা, পেট্রোনিজ সহ বিভিন্ন আলু বীজ লাগাতে থাকবে।

জানুয়ারি মাসের শুরুতেই হাইব্রিড জাতের আলু লেডিরোসেটা, বারী-২, বারী-৯, এটলাস এবং দেশী জাতীয় স্থানীয় আলু লাল পাকড়ি, সাদা পাকড়ি, বগড়াই ইত্যাদি জাতের বীজ লাগানো শুরু করবে।এবারে আলুর প্রতি হেক্টরে ফলন ২২ দশমিক ২১ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, জেলায় ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন ৫০০ কেজি আলু উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছর জেলায় ৪৭ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আলু অর্জিত হয়েছিল।

আলুর ক্ষেতে পরিচর্যা, বালাই নাশক, কীটনাশক ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সার দেওয়ার জন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের সহযোগিতা চলমান রেখেছে। কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে, জেলায় এবার বাম্পার আলু উৎপাদনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলার নানিয়াটিকর গ্রামের কৃষক মো. শরীফ উদ্দিন এবং সদর উপজেলা নশিপুর গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলাম দুজনেই আশা করছেন, ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে তাদের আগাম জাতের আলু ভালো দামে বাজারজাত করতে পারবেন।