ডিসেম্বর ৩, ২০২৫, ০৯:৫৫ এএম
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পুরোদমে চলছে আগাম আলু তোলার কাজ, যেখানে কৃষক ব্যস্ত সময় পার করছেন লোকসানের বোঝা হালকা করার নতুন স্বপ্নে। গত মৌসুমে আলুর বাজারে চরম দরপতনের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন এই এলাকার অনেক কৃষক।
সেই ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতেই এবার ঝুঁকি নিয়ে মৌসুমের আগেই তারা আগাম আলুর আবাদ করেছিলেন। বর্তমানে বাজারে তুলনামূলক উচ্চদর থাকায় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার এক নতুন আশা দেখা দিয়েছে তাদের চোখেমুখে।
তবে স্থানীয় কৃষকদের মনে একটি বড় উদ্বেগ কাজ করছে; তাদের ভাষ্যমতে, ভারতীয় আলু চোরাইপথে দেশে ঢুকতে শুরু করলে স্থানীয়ভাবে আলুর যে উচ্চ বাজারদর রয়েছে, তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
নোহালী ইউনিয়নের কচুয়া সদ্দারপাড়া এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন নিজের জমিতে আলু তোলায় এখন দিন-রাত এক করছেন। তিনি জানান, গত বছর চার বিঘা জমিতে ফলন ভালো হলেও প্রায় ১০৫ বস্তা আলু হিমাগারে রাখতে হয়েছিল। পরে আলুর দাম কমে যাওয়ায় ৯৫ বস্তা বিক্রি করে খরচ বাদে তার হাতে এসেছিল মাত্র ১৫ হাজার টাকা। সেই লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতেই তিনি এবার আগাম আলুর দিকে মন দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর বলেন, ১০ বস্তা আলুবীজ ব্যবহার করে তিনি ৪০ শতক জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ করেছিলেন।
তার ধারণা, এবার সেই জমি থেকে প্রায় ১৫ বস্তা আলু উঠবে। বর্তমান বাজারে আলুর দাম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এই দাম স্থিতিশীল থাকলে সম্ভাব্য বিক্রি থেকে তিনি ৩৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা আয় করতে পারবেন। এই দামে বিক্রি করতে পারলে গত বছরের ক্ষতির একটি অংশ লাঘব করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সয়েদ শাহিনুর ইসলাম জানান, পুরো উপজেলাজুড়ে এখনো ব্যাপক আকারে আলু তোলার কাজ শুরু হয়নি।
বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন কৃষকই শুধু আগাম জাতের চাষ করেছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ বাড়বে এবং কৃষকরা এবার তুলনামূলক ভালো দাম পাবেন, যা তাদের গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন