ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ১১:৩৯ এএম
নীলফামারী জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মাল্টা। পাহাড়ি ফল হিসেবে পরিচিত হলেও মাল্টা চাষের এই উদ্যোগ সমতল ভূমিতেও এর ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মাল্টা চাষীরা আশা করছেন, এই ফল কৃষি অর্থনীতিকে একটি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
মাল্টা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, সুস্বাদু এবং রসালো একটি ফল। এক সময় নীলফামারীতে মাল্টা আমদানি করা হলেও এখন স্থানীয়ভাবে চাষ হচ্ছে। বেলে, দোআঁশ ও উঁচু জমি মাল্টা চাষের উপযোগী হওয়ায় মাটির গুণাগুণ ঠিক রেখে সমতল এলাকায়ও চাষ করে লাভবান হতে পারছেন কৃষকেরা।
নীলফামারী সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের ঝাড়পাড়া গ্রামে সড়কের পাশে প্রায় তিন একর জমিতে গড়ে উঠেছে 'রাজু অর্গানিক গার্ডেন অ্যান্ড নার্সারী'।
এই বাগানের উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান (রাজু) পড়ালেখা শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেন। চাকরি না পেয়ে তিনি নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করেন। উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করে ২০১৮ সালে তিনি ফলের বাগান গড়ে তোলেন। রাজুর বাগানে সিকি মোসাম্বি, বারী-১, বারী-২, ইএলও-২, মরক্কো, সাউথ আফ্রিকান মাল্টাসহ প্রায় ১১ জাতের মাল্টা চাষ হচ্ছে।উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান রাজু বলেন, ২০১৯ সালে কিছু কিছু গাছে ফল আসে এবং ২০২০ সালে খুব ভালো ফল হয়। বাজারে এর চাহিদা অনেক বেশি।
পাকা মাল্টায় ভরপুর বাগানটিতেই প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে এবং বেশিরভাগ মাল্টা কুরিয়ারের মাধ্যমে বাইরের জেলায় পাঠানো হচ্ছে।নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ বলেন, রাজু প্রমাণ করেছেন যে কৃষিকে উদ্যোক্তা হিসেবে নিয়েও সফল হওয়া যায়। তিনি এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। তাকে দেখে অনেকে উৎসাহিত হয়ে চারা সংগ্রহ করছেন। কৃষি বিভাগ রাজুকে দীর্ঘদিন সঠিক রস, রং, ও স্বাদ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, বাগানের জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট, জৈব সার ও হাড়ের গুঁড়া ব্যবহার করে আশাতীত ফলন মিলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন