ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ১০:২৮ এএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে মালচিং পদ্ধতিতে শীতকালীন জাদুশসা চাষ করে গোটা জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষক মো. পারভেজ খান। বেকারত্বের দুশ্চিন্তা কাটিয়ে তিনি কৃষি দপ্তরের পরামর্শ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন এবং মাত্র ১৫ শতক জমি থেকে অভাবনীয় সফলতা লাভ করেছেন।
আধুনিক এই পদ্ধতির মাধ্যমে বীজ রোপণের সত্তর থেকে আশি দিনের মধ্যেই প্রতিটি শসা গাছে প্রচুর ফলন এসেছে এবং এই ফলনের আয়ুষ্কাল ৪২ দিন পর্যন্ত থাকবে বলে জানা যায়।
বাজারে এই সুস্বাদু শসার চাহিদা দ্বিগুণ রয়েছে।মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের আলতিবুরুজবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ খানের ছেলে পারভেজ খান একসময় বেকারত্বের কারণে পরিবার নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন।
এরপর তিনি কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন শসা চাষের। তিনি নিজের পনেরো শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে মাচা তৈরি করে শীতকালীন জাদুশসা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার সাফল্য গোটা উপজেলায় সাড়া ফেলেছে।কৃষক পারভেজ খান জানান, তিনি এ পর্যন্ত ক্ষেত থেকে পাঁচ বারে প্রায় পঁয়তাল্লিশ মণ শসা তুলে বাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ শসা প্রথমে দুই হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে এক হাজার আটশো টাকা দরে বিক্রি করে তিনি ইতোমধ্যে প্রায় নব্বই হাজার টাকা আয় করেছেন।
তিনি হিসেব কষে জানান, ১৫ শতক জমিতে জাদুশসা উৎপাদনে বীজ, ওষুধ, মালচিং পেপার ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ তাঁর মোট খরচ হয়েছে মাত্র পনেরো হাজার টাকা। তিনি আশাবাদী যে, এই ক্ষেত থেকে লক্ষাধিক টাকার বেশি শসা বিক্রি করতে পারবেন। এই আধুনিক পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
এ বিষয়ে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, চাষিদেরকে আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সময়োপযোগী পরামর্শ দেওয়ায় আজ সফল চাষি পারভেজ খান গোটা উপজেলার জন্য একটি দৃষ্টান্ত। তার এই সাফল্য অন্য কৃষকদেরও আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন