রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লোকসান কাটিয়ে উঠতে যশোরে নতুন করে আলু চাষে ব্যস্ততা, নোয়াখালীতে বাড়ছে লাভজনক কুল চাষ।

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ০৬:৪৭ পিএম

লোকসান কাটিয়ে উঠতে যশোরে নতুন করে আলু চাষে ব্যস্ততা, নোয়াখালীতে বাড়ছে লাভজনক কুল চাষ।

চ্যানেল আই কৃষি সংবাদে জানা যায়, আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গত মৌসুমে লোকসান হলেও ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আশায় যশোরের কৃষকরা নতুন করে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন |

 ক্ষেতের সবজি তোলার পরই তারা জমি চাষ, সার প্রয়োগ ও বীজ আলু রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং মাঠ জুড়ে এখন শীতকালীন ফসলের কর্মব্যস্ততা চলছে, যার মধ্যে রয়েছে বাঁধাকপি উত্তোলন ও নতুন বীজ আলু রোপণের জন্য জমি তৈরি।

 

যশোর অঞ্চলের কোল্ড স্টোরেজগুলোতে গত মৌসুমের বিপুল পরিমাণ আলু সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি না হওয়ায় এখনো অবিক্রিত রয়েছে, এমনকি ৩০শে নভেম্বরের মধ্যে স্টোর খালি করার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

এক কৃষক জানান, বীজ আলুর দাম অনেক বেশি হলেও তারা যখন আলু বিক্রি করেন, তখন দাম খুবই কম থাকে এবং খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং তার কাছে বীজ রাখার জন্য কিছু আলু কিনে রাখা হলেও এখনো সব লাল আলু ওঠাতে পারেননি।

কৃষি বিভাগ ও বিএডিসি কৃষকদের আলু চাষে উৎসাহিত করতে বীজ, সার, ওষুধসহ অর্থসহায়তা দিচ্ছে বলে কৃষকরা উল্লেখ করেন, যেখানে বিডিসির যশোর আলু বীজ জোনের আওতায় ৫৪ জন কৃষককে ব্যাংকের মাধ্যমে বীজ আলু দেওয়া হয়েছে এবং ফসল তোলার পর লোন পরিশোধ করে বাকি টাকা কৃষকদেরকে দেওয়া হবে।

যশোর জেলায় চলতি মৌসুমে ১৫৫০ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বীজ শোধন, রোপণ দূরত্ব, সার ব্যবস্থাপনা ও সেচ ইত্যাদি বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, বিষমুক্ত খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়,

যেখানে বক্তারা রাসায়নিক ও ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর দাবি জানানোর পাশাপাশি ক্ষতিকর কীটনাশক বিক্রি নিয়ন্ত্রণ, নিম্নমানের কীটনাশকের বাজারজাতকরণ বন্ধ, কৃষকদের সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের দাবি তোলেন।

অন্যদিকে, গত কয়েক বছর ধরে ভালো বাজার দর পাওয়ায় নোয়াখালীতে কুল চাষ বাড়ছে, যেখানে গত বছর ৯৪ হেক্টর জমিতে কুলের আবাদ হলেও চলতি মৌসুমে তা বেড়ে ১১৯ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে এবং এই সম্প্রসারণ উপকূলীয় হাতিয়া উপজেলাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

স্বল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন পেশার মানুষ কুল চাষে ঝুঁকছেন, বিশেষ করে হাতিয়া উপজেলায় যেখানে বিভিন্ন জাতের কুলের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে।

এক কৃষক জানান, তারা দেড় ফুট বাই এক ফুটের গর্ত করে জৈব সার, রাসায়নিক সার ও বিভিন্ন মেডিসিন দিয়ে চারা রোপণ করেন এবং তার দেড় বিঘা জমিতে প্রায় ৮০০ গাছ আছে, যেখান থেকে গত দুই বছরে তিনি প্রায় আট লক্ষ টাকার কুল বিক্রি করেছেন এবং খরচ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ টাকা, আবার অন্য একজন প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকার কুল বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এ এলাকার মাটিতে উৎপাদিত কুল স্বাদ ও গুণে ভালো হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে, পাইকারি বাজারে যা শুরুতে ১২০ টাকা দরে বিক্রি শুরু হয় এবং পরবর্তীতে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় শেষ হয়, যেখানে প্রতিটি গাছে ২০ থেকে ৩০ কেজি ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ চলতি মৌসুমে হাতিয়া উপজেলায় ২৮ হেক্টর জমিতে কুল চাষ হচ্ছে বলে জানিয়েছে এবং তারা কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছেন ও উন্নত জাত ও মানসম্মত চারা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনে এই এলাকায় কুল চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।