ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৮:৫২ পিএম
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় আগাম জাতের আলু তুলতে শুরু করেছেন চাষীরা। তবে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। বাজারে আলুর দাম অস্বাভাবিক কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। অধিকাংশ কৃষককে এবার বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে আলু তোলায় ব্যস্ত কৃষাণ-কৃষাণী। তবে দামের কথা তুলতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বলরামপুর গ্রামের চাষী শরিফুল ইসলাম জানান, ৩৩ শতক জমিতে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে আলু পেয়েছেন ৪০ বস্তা। ৯ টাকা কেজি দরে তা বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ২৫ হাজার ২০০ টাকা। এতে তার লোকসান হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
একই গ্রামের আহসান আলী ৬০ শতক জমিতে ৮৯ হাজার টাকা খরচ করে আলু বিক্রি করেছেন মাত্র ৫২ হাজার টাকায়।কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, "সার, বীজ ও শ্রমিকের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। কিন্তু বাজারে আলুর দাম এতোটাই কম যে খেত থেকে আলু তোলার খরচও উঠছে না।"উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় ৩৩ হাজার ৩৩৩ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, "বাজারে এখনও পুরাতন আলু পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় নতুন আলুর দাম অনেক কম। ফলে আগাম জাতের আলু চাষীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি আলু তোলার পর দ্রুত ওই জমিতে ভুট্টা চাষ করার জন্য, যাতে আলুর এই ক্ষতি অন্য ফসলে পুষিয়ে নেওয়া যায়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন