রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পটুয়াখালীতে বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি কুল চাষে বিপ্লব, লাভের স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

পটুয়াখালীতে বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি কুল চাষে বিপ্লব, লাভের স্বপ্ন বুনছেন কৃষকেরা

বলসুন্দরী, আপেল ও কাশ্মীরি কুল চাষ করে কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার কৃষকেরা। উপকূলীয় এই অঞ্চলের উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে কুলের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সমন্বিত মিশ্র ফলের বাগানগুলোতে এখন কুলের বাহারি রূপ। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে আপেল কুল, বলসুন্দরী ও কাশ্মীরি কুল।

অনেক বাগানে কুলের পাশাপাশি আম তরমুজ এবং বিভিন্ন শীতকালীন সবজির সাথী ফসল হিসেবে চাষ করে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন কৃষকেরা।

আলীপুরা ইউনিয়নের কৃষি উদ্যোক্তা রণজিৎ চন্দ্র দাস জানান, তার বাগানে কুল, আম ও তরমুজ চাষে প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তবে কুলের যে ফলন ও বাজারে চাহিদা রয়েছে, তাতে সব খরচ বাদ দিয়েও বড় অংকের লাভের আশা করছেন তিনি। আরেক কৃষক মো. হাসান বলেন, উন্নত জাতের এই কুল গাছগুলো আকারে ছোট হলেও ফলন দেয় প্রচুর। কুলের ভারে ডাল নুয়ে পড়ায় ফল সংগ্রহ করাও বেশ সহজ।উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে কুলের বাজারদর বেশ সন্তোষজনক। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কুল ৭০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে এর দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১২৫ টাকার মধ্যে। বিশেষ করে বলসুন্দরী ও আপেল কুলের চাহিদা রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে যশোর, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকে কুল সংগ্রহ করছেন।দশমিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, দশমিনার মাটি কুলসহ বিভিন্ন ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের কৃষকদের উন্নত জাতের কুল চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন চমৎকার হয়েছে।

পটুয়াখালীর দশমিনায় কুল চাষ এখন আর কেবল পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই; এটি একটি লাভজনক ও টেকসই কৃষি কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। পরিকল্পিত চাষাবাদ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই কুল চাষ ভবিষ্যতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি হাজারো বেকার যুবককে স্বাবলম্বী করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।