অমর চাঁদ গুপ্ত অপু
মার্চ ৭, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
খিরা হাতে হাসিমুখে কৃষক :ছবি-দিনাজপুর টিভি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতেই খিরার দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। রোজার আগে প্রতি কেজি খিরা ১৮ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হলেও রমজানের প্রথম দিন থেকেই বাজারে তা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে খিরার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতে, সারাবছর খিরার চাহিদা থাকলেও রমজান মাসে এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে মুখরোচক খাদ্য উপকরণ হিসেবে শসা ও খিরার কদর থাকায় দামও ঊর্ধ্বমুখী থাকে।
উপজেলার ৬নং দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের আদর্শ কৃষক পরীক্ষিত চন্দ্র রায় জানান, তিনি এবার ৫০ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের খিরা চাষ করেছেন। তার মোট খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যার ফলে খিরার মান ও ফলন ভালো হয়েছে।
তিনি এরই মধ্যে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করেছেন এবং জমিতে আরও ৫০ হাজার টাকার বেশি খিরা অবশিষ্ট রয়েছে বলে আশা করছেন।একইভাবে বুজরুজ সমশেরনগর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিমসহ এলাকার অন্যান্য চাষিরাও এ বছর খিরা আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কৃষকরা জানান, প্রথম দিকে দাম কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় তারা অত্যন্ত খুশি। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবার ফসলের আকার ও স্বাদ দুটিই উন্নত হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন জানান, চলতি মৌসুমে পৌর এলাকা ও সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে খিরা ও শসার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে এবং বাজার দর ভালো থাকায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। ফলন ও লাভের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামীতে এই অঞ্চলে খিরা ও শসার আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।