রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক

কৃষি ডেস্ক

মার্চ ১১, ২০২৬, ১১:২৯ এএম

সূর্যমুখী চাষে লাভবান কৃষক

নবীনগরে সূর্যমুখী খেত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদ সূর্যমুখী ফুলের সমারোহ। চলতি মৌসুমে উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে এই তেলের বীজের আবাদ হয়েছে। ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ এবং কৃষকদের বিকল্প লাভজনক ফসলের দিকে আগ্রহী করতে সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিশেষ উদ্যোগে এই আবাদ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। 

এর আওতায় স্থানীয় কৃষকদের উন্নত মানের বীজ, সার এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সূর্যমুখী একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তেলবীজ ফসল। এর বীজে প্রায় ৪০ শতাংশ তেল থাকে। 

অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে প্রতি বিঘা জমি থেকে ৪ থেকে ৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। সেই হিসেবে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লিটার স্বাস্থ্যসম্মত তেল উৎপাদন করা যায়, যা অর্থনৈতিকভাবে কৃষকদের জন্য বেশ লাভজনক। দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে এই ফসল চাষের আগ্রহ কয়েক গুণ বেড়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লাউরফতেহপুর, ইব্রাহিমপুর, বীরগাঁও ও নাটঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে সারি সারি সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। মাঠের পর মাঠ ফুটে থাকা হলুদ ফুলের এই দৃশ্য শুধু কৃষকের মুখে হাসি ফোটায়নি, বরং তা নান্দনিক আকর্ষণেও পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলের দিকে এসব ক্ষেতে স্থানীয় মানুষ এবং দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যায়। অনেকেই এই প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে এবং ছবি তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন।

নবীনগর পৌরসভার দোলাবাড়ি এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, তিনি এবারই প্রথম কৃষি বিভাগের পরামর্শে এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। ধানের বিকল্প হিসেবে এবং তেলের চাহিদা মেটাতে তিনি এই ফসল চাষে আগ্রহী হয়েছেন। মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, তার খেতের গাছে পুষ্পমঞ্জরিতে দানা গঠিত হচ্ছে এবং ফলন ভালো হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে লাউরফতেহপুর ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান তিন বিঘা জমিতে এই চাষ করে বড় ধরনের সাফল্যের আশা করছেন। তিনি জানান, কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়ায় চাষ পদ্ধতি অনেক সহজ হয়েছে এবং তিনি এই বীজ থেকে নিজস্ব ব্যবহারের জন্য তেল উৎপাদন করবেন।

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, সূর্যমুখীর তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত ফ্যাট থাকে। এটি রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। এই তেলের গুণাগুণ বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে উপজেলায় সূর্যমুখী চাষ আরও ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করছে।