রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ক্যাপসিকাম চাষে বাজিমাত করছেন কৃষকরা

কৃষি ডেস্ক

মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

ক্যাপসিকাম চাষে বাজিমাত করছেন কৃষকরা

মুরাদনগরে ক্যাপসিকাম ক্ষেত

কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মুরাদনগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো উচ্চমূল্যের ফসল ক্যাপসিকাম চাষ শুরু হয়েছে। নতুন এই ফসল চাষে ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ২ হেক্টর জমিতে প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই আবাদ শুরু করা হয়েছে। 

উপজেলার কামাল্লা, ধামঘর, মুরাদনগর এবং বাঙ্গরাসহ মোট ১৪টি ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে এই পুষ্টিকর সবজির চাষ হচ্ছে। সালাদ ও বিভিন্ন আধুনিক খাবারে ক্যাপসিকামের ব্যাপক চাহিদা থাকায় স্থানীয় কৃষকরা এই ফসল চাষে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপসিকাম চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি খাত। প্রতি বিঘা জমিতে এই ফসল আবাদ করতে কৃষকদের খরচ হয় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। তবে ফসল উৎপাদন শেষে বাজারজাত করা সম্ভব হলে একই জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। 

মুরাদনগরের বাঙ্গরা পূর্ব ও ধামঘর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক সরকারি সহযোগিতায় ইতোমধ্যে এই আবাদ সম্পন্ন করেছেন। কৃষকদের উৎসাহ দিতে কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত মানের বীজ, জৈব ও রাসায়নিক সার এবং পলি মালচিং ফিল্মসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।মুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু জানিয়েছেন যে এই অঞ্চলে এবারই প্রথমবার ক্যাপসিকামের আবাদ শুরু হয়েছে। 

ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই সবজিটি বাজারে বেশ উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে অল্প সময়েই কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারেন। সফল আবাদের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কুমিল্লার কৃষিতে এটি একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা আশা করছেন, এবারের ফলন আশানুরূপ হলে আগামী মৌসুমে মুরাদনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ক্যাপসিকাম চাষের পরিধি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।