মার্চ ২৫, ২০২৬, ১০:২৩ এএম
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় মধু চাষে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমের এই সময়ে উপজেলার কাজল গ্রামে মৌমাছি পালন ও মধু সংগ্রহে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালরা। অনুকূল আবহাওয়া এবং ফুলের ভালো ফলন হওয়ায় এবার মধুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২৫ মার্চ বুধবার সকালে বীরগঞ্জ উপজেলার কাজল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সারিবদ্ধ মৌ-বাক্স বসানো হয়েছে। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা একটি যাযাবর মৌচাষি দল এখানে খামার স্থাপন করেছেন।
চারজন শ্রমিকের একটি দল দিন-রাত পরিশ্রম করে আধুনিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করছেন। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে দুই দফায় মধু সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রতিবারই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফলন পাওয়া গেছে।
মৌয়াল মো. রাকিব ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত মোট ৬০০ কেজি মধু আহরণ করা সম্ভব হয়েছে। সংগৃহীত এই মধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পর্যাপ্ত ফুল পাওয়ায় এবার মধুর গুণগত মান ও পরিমাণ দুটোই বেশ সন্তোষজনক। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে মৌচাক পর্যবেক্ষণ এবং মধু সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা বর্তমানে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। লাভজনক হওয়ায় কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও তারা বেশ উৎসাহের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নূর হক ইসলাম জানান, বীরগঞ্জের কাজল গ্রামে মধু চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তুলনামূলক কম পুঁজিতে ভালো মুনাফা হওয়ায় অনেক বেকার যুবক ও কৃষক এখন মধু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সঠিক কারিগরি সহায়তা পেলে এ অঞ্চলে মধু চাষ একটি অন্যতম অর্থনৈতিক খাত হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মূলত আবহাওয়া ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বীরগঞ্জে উৎপাদিত মধুর চাহিদাও বাড়ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন