মার্চ ৩০, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
বরগুনার আমতলীতে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসির বদলে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান এই তরমুজ উৎপাদনকারী এলাকায় আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় অনেক চাষি বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
মাঠ পর্যায়ে যারা আগাম তরমুজ বাজারে তুলতে পেরেছিলেন, তারা কিছুটা লাভের মুখ দেখলেও এখন ভরা মৌসুমে এসে দাম কমে যাওয়ায় সাধারণ কৃষকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
আমতলী উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ বছর উপজেলায় তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমি। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের আগ্রহের কারণে আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টরেরও বেশি জমিতে।
কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, সঠিক বাজারমূল্য পাওয়া গেলে শুধু আমতলী থেকেই এ বছর প্রায় ২৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে পাইকার সংকটের কারণে সেই বিশাল আয়ের লক্ষ্যমাত্রা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খেতে খেতে গড়ে তোলা হয়েছে খড়কুটো দিয়ে ঘেরা ছোট ছোট টং ঘর। এসব ঘরেই এখন কয়েকশ কৃষকের অস্থায়ী আবাস।
তারা দিনরাত পাহারা দিয়ে যে ফসল ফলিয়েছেন, তার ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। স্থানীয়ভাবে এই তরমুজ পিস হিসেবে বিক্রি হয়। বর্তমানে ৫ থেকে ৭ কেজি ওজনের প্রতিটি তরমুজ মাত্র ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ চাষিদের ভাষ্যমতে, এই ফল উৎপাদনে এবং জমি লিজ নেওয়ার যে খরচ হয়েছে, তাতে এই মূল্যে বিক্রি করলে লোকসান ছাড়া উপায় নেই।উপজেলার চাওরা ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের কৃষক মামুন মোল্লা জানান, তিনি ১০ কানি জমি ৫ লক্ষ টাকায় লিজ নিয়ে প্রায় ৫০ হাজার চারা রোপণ করেছিলেন। ফলন আশাতীত ভালো হলেও পাইকার না আসায় তিনি কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না।
গত বছর যে পরিমাণ পাইকার এলাকায় এসেছিলেন, এ বছর তাদের দেখা মিলছে না বললেই চলে। একই অবস্থা হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের চাষি সিদ্দিকুর রহমান ও আলমের। তারা জানান, জমির লিজের খরচ ও উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে এখন নামমাত্র লাভে ফল ছেড়ে দিতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেই লাভটুকুও থাকছে না।কৃষি শ্রমিকেরাও এই পরিস্থিতিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। গুলিশাখালী ইউনিয়নের শাহিন সিকদারের খেতে কর্মরত সবুজ খান জানান, থাকা-খাওয়া সুবিধা নিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বেতনে তারা দিনরাত কাজ করেন।
কিন্তু মালিকের লাভ না হলে তাদের কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়ে। অন্যদিকে, আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানান, এখানকার মাটি ও নদ-নদীর মিঠা পানি তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের এই সংকট কাটাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারদের আমতলীতে এসে তরমুজ কেনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকেও চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন