এপ্রিল ১৩, ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম
গ্রীষ্মের তাপদাহ শুরু হতে না হতেই দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ ফুটে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় এখন গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল কাঁঠাল। সোমবার ১৩ এপ্রিল বীরগঞ্জের কাজল গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, প্রকৃতি যেন সেজেছে এক মনোরম ও দৃষ্টিনন্দন সাজে।
বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে রাস্তার ধার কিংবা বড় বড় বাগান—সবখানেই গাছের কাণ্ড ও ডালপালা জুড়ে ঝুলছে অসংখ্য কাঁচা কাঁঠাল।উপজেলার পাল্টাপুর, ভোগনগর, শতগ্রাম ও শিবরামপুরসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই কাঁঠালের এমন সমারোহ চোখে পড়ার মতো।
সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলন্ত বড় বড় কাঁঠাল গ্রামীণ সৌন্দর্যকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, তেমনি বাগান মালিক ও সাধারণ কৃষকদের মনে জাগিয়েছে নতুন আশার আলো।
স্থানীয় কাজল গ্রামের বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরই এখানে প্রচুর কাঁঠাল ধরে, তবে এ বছরের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গত বছরের তুলনায় এবার কাঁঠালের উপস্থিতি অনেক বেশি এবং ফলের আকারও বেশ সন্তোষজনক মনে হচ্ছে।কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় কাঁঠালের ফলন বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক গাছেই গতবারের চেয়ে অনেক বেশি ফল দেখা যাচ্ছে।
মৌসুমের শুরুতে এমন ফলন দেখে কৃষকরা এখন লাভের স্বপ্ন বুনছেন। তারা আশা করছেন, মৌসুমজুড়ে যদি বাজার দর স্থিতিশীল থাকে, তবে তারা আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হতে পারবেন। বর্তমানে বাজারে কাঁচা কাঁঠালের চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে, যা তরকারি হিসেবে অনেকের কাছেই বেশ প্রিয়।এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কহিনুর বেগম জানান, কাঁঠাল শুধু স্বাদের জন্যই নয় বরং পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এটি অনন্য। ভিটামিন, খনিজ এবং শক্তি সমৃদ্ধ এই ফলটি গ্রীষ্মকালে গ্রামীণ মানুষের পুষ্টির বড় উৎস হিসেবে কাজ করে।
এই মৌসুম ঘনিয়ে এলেই কাঁঠালের প্রতি সাধারণ মানুষের অন্যরকম এক আকর্ষণ কাজ করে। গাছে গাছে কাঁঠালের এই প্রাকৃতিক সমারোহ বীরগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন বাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনি স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে ওঠার নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। তারা এখন কেবল ফল পাকার ও বাজারজাত করার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন