রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দিনাজপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলন

কৃষি ডেস্ক

এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে দিনাজপুরে ভুট্টার বাম্পার ফলন

দিনাজপুরে ভুট্টা

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় বর্তমানে ভুট্টা কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জেলায় ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলার কৃষকরা এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন।দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, গত ১৫ দিন ধরে জেলার কৃষকরা কৃষি বিভাগের ভর্তুকি মূল্যে প্রদান করা হারভেস্টারসহ আধুনিক ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র ব্যবহার করছেন। 

এর ফলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ভুট্টা মাড়াই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় তাপদাহ বেশি থাকায় মাড়াই করা ভুট্টা কৃষকরা খুব দ্রুত শুকাতে পারছেন, যা বিপণনের জন্য সহায়ক। আশা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসের মধ্যেই জেলার উৎপাদিত সমস্ত ভুট্টা মাড়াই করে কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবেন।

ভুট্টা চাষের পরিসংখ্যান ও বাজার দর:

চাষের লক্ষ্যমাত্রা: ৭৬,২০০ হেক্টর।

প্রকৃত চাষ: ৭৮,৯০০ হেক্টর (লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২,৭০০ হেক্টর বেশি)।

বিঘা প্রতি ফলন: ৪০ থেকে ৫০ মণ।

উৎপাদন খরচ: ১২,০০০ থেকে ১৪,০০০ টাকা (বিঘা প্রতি)।

কাঁচা ভুট্টার দাম: ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি (জমি থেকেই বিক্রি)।

শুকনো ভুট্টার দাম: ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি।

নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া গ্রামের আদর্শ কৃষক মোখছেদ আলী জানান, তিনি আড়াই একর জমিতে ভুট্টা চাষ করে চমৎকার ফলন পেয়েছেন। জমি থেকেই কাঁচা ভুট্টা ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি। কড়া রোদের কারণে পাইকাররা জমি থেকে কাঁচা ভুট্টা কিনে তাদের চাতালে নিয়ে দ্রুত শুকাতে পারছেন। থাইল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানি সিপি এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান নারিশ সরাসরি পাইকারদের কাছ থেকে শুকনো ভুট্টা সংগ্রহ করছে।

ব্যবসায়িক দিক থেকে দেখা যাচ্ছে, অনেক মজুদদার ব্যবসায়ী এখন কাঁচা ভুট্টা কিনে শুকানোর পর মজুত করছেন। ভুট্টা ব্যবসায়ী শামসুজ্জামান মানিকের মতে, মৌসুম শেষে প্রতি কেজি ভুট্টায় ৮ থেকে ১০ টাকা বেশি মুনাফা করা সম্ভব হয়। ভুট্টা চাষ একটি লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় প্রতি বছরই দিনাজপুরে এর আবাদ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ এবং উন্নত জাতের বীজের ব্যবহারই এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।