রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে ঢেপা নদীর চরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

মোঃ আরিফ ইসলাম

এপ্রিল ২২, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

বীরগঞ্জে ঢেপা নদীর চরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় ঢেপা নদীর বিস্তৃত বালুচরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘটিয়েছেন স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকরা। বর্ষার স্রোতস্বিনী ঢেপা শীতের শুরুতেই শুকিয়ে গেলে যে চরাঞ্চল জেগে ওঠে, সেখানেই এখন দৃশ্যমান হচ্ছে সবুজের বিপ্লব। বালুর স্তূপকে শ্রম আর মেধা দিয়ে চাষযোগ্য জমিতে রূপান্তর করে স্থানীয় কৃষকরা তাদের খাদ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন।

প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে নদীর পানি কমতে শুরু করলে কৃষকরা এই অস্থায়ী জমিতে চাষাবাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। ভূমিহীন কৃষকরা মূলত এই মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। জমি তৈরি করতে তারা প্রথমে মাটি কেটে সমান করেন এবং আইল তুলে পানি আটকে রাখার ব্যবস্থা করেন। 

দীর্ঘ পরিশ্রমের পর ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে সেখানে বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়। নদীর তলদেশে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বেশি থাকায় এবং নদীর অবশিষ্ট পানি সেচ হিসেবে ব্যবহার করায় চাষাবাদের খরচ সমতল জমির তুলনায় অনেক কম হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সমতল জমিতে এক বিঘা বোরো ধান চাষ করতে যে পরিমাণ সার, সেচ ও শ্রমের খরচ হয়, নদীর চরে সেই খরচ নেমে আসে অর্ধেকে। সেচ ও সারের ব্যবহার কম হওয়ায় এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ বেশ লাভজনক। ফলনও হচ্ছে আশানুরূপ। প্রতি বিঘা থেকে যে পরিমাণ ধান পাওয়া যায়, তা দিয়ে একটি দরিদ্র পরিবারের কয়েক মাসের খাদ্য চাহিদা সহজেই পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। যারা নিজের জমির অভাবে এক সময় কৃষিকাজ থেকে দূরে ছিলেন, তারা এখন এই চরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন করে আত্মনির্ভরতার পথ খুঁজে পেয়েছেন।

কৃষি বিভাগের মতে, আগে এই চরাঞ্চলগুলো অনাবাদি পড়ে থাকত। বর্তমানে কৃষকদের আগ্রহের কারণে এসব পতিত জমি উৎপাদনের আওতায় আসায় দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে ভূমিহীন মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নদীর চরের এই চাষাবাদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। প্রকৃতির প্রতিকূলতাকে জয় করে কৃষকরা যেভাবে বালুর চরে ফসল ফলাচ্ছেন, তা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শরিফুল ইসলাম এই নতুন কৃষিব্যবস্থা সম্পর্কে জানান, এ বছর ঢেপা নদীতে বন্যার পানি দীর্ঘ সময় থাকায় জমিতে পলি পড়ে উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে চরে বোরো ধানসহ বিভিন্ন রবি ফসলের আবাদ হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত চাষিদের কাছে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে এবং পোকা দমনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে মাঠের পর মাঠ জুড়ে দুলছে সবুজ ধানক্ষেত, যা অল্প কদিন পরেই সোনালী রূপ ধারণ করবে। এর মাধ্যমেই স্থানীয় অভাবী কৃষকদের ঘরে আসবে নতুন ফসল।