রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বীরগঞ্জে ক্যাপসিকাম চাষে কৃষকদের নতুন আশা

মোঃ আরিফ ইসলাম

মে ৭, ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

বীরগঞ্জে ক্যাপসিকাম চাষে কৃষকদের নতুন আশা

ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে উচ্চফলনশীল সবজি ক্যাপসিকাম চাষ করে সফল হয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলার নিজপাড়া, মোহনপুর ও সাতোর ইউনিয়নের অন্তত ৩ জন কৃষক এবারই প্রথম ‘ইন্দ্রা গোল্ড’ ও ‘সুইটি’ জাতের এই বিদেশি সবজি চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।

বীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নং মোহনপুর ইউনিয়নের মাটিয়াকুড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম আবাদ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের কারিগরি সহায়তায় উৎপাদিত এই উচ্চমূল্যের ফসল বর্তমানে সরাসরি ঢাকার বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আব্দুর রউফ জানান, নিরলস পরিশ্রম ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এই সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

সাতোর ইউনিয়নের কৃষক হাসান আলী জানান, তিনি প্রায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ জমিতে লাল ও হলুদ জাতের ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। প্রথমবারের মতো এই আবাদ করে গাছে প্রচুর ফল আসায় তিনি খুশি। 

হাসান আলী বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করা হয়েছে। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় বর্তমানে ১০০ কেজি ক্যাপসিকাম ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।কৃষকরা জানান, ক্যাপসিকাম সাধারণত স্যুপ, সবজি ও সালাদ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে জেলা শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড প্রেমিদের কাছে এই সবজির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে এলাকার আরও অনেক কৃষক এই চাষে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সফলতার পেছনে দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।

ইউনিয়ন সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হায়দার আলী জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও উপকরণ সহায়তায় কৃষকেরা এই উচ্চমূল্যের সবজি চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা করা হচ্ছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, জেলা টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় উচ্চমূল্যের সবজি ও ফসল চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ক্যাপসিকাম আবাদে বীরগঞ্জের কৃষকরা ভালো সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ক্যাপসিকাম ভিটামিন সি, এ ও কে সমৃদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বীরগঞ্জের মাটি ক্যাপসিকাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে ক্যাপসিকাম আবাদের পরিধি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।