মে ১০, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় চলতি মৌসুমের ইরি-বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে এবার জেলায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন শনিবার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে জেলার সবকটি উপজেলায় কৃষকরা পাকা ধান কাটা শুরু করেছেন। মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে ফসলের অবস্থা অত্যন্ত ভালো রয়েছে। আগাম জাতের ধানগুলো এরই মধ্যে কাটা শেষ পর্যায়ে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটার আগেই মাঠের ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, গত দুই বছরে দিনাজপুর জেলায় অর্ধেক ভর্তুকি মূল্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি আধুনিক কম্বাইন হারভেস্ট মেশিন সরবরাহ করা হয়েছে। এই মেশিনগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৫০ একর জমির ধান একই সাথে কাটা ও মাড়াই করা সম্ভব হচ্ছে।
এর ফলে ধান কাটার জন্য কৃষকদের শ্রমিক সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে না এবং স্বল্প খরচে দ্রুত ফসল ঘরে তোলা যাচ্ছে।মাঠে দেখা গেছে, আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে ধান কাটার পর সাথে সাথেই মাড়াই করে বস্তাবন্দি করা হচ্ছে। একই সাথে রোদ থাকায় কৃষকরা মাঠেই খড় শুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছেন। গবাদি পশুর খাদ্যের চাহিদা মেটানোর পর অবশিষ্ট খড় বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি স্থানীয় কৃষকরা। সদর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম ও জিয়াউল ইসলাম জানান, ফলন ভালো হয়েছে এবং মেশিনের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বেঁচে যাচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (প্রশিক্ষণ ও শস্য) উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৭২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ অর্জিত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৮ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজিনা বেগম জানান, মাঠের অধিকাংশ ধান পেকে গেছে এবং কৃষকরা উৎসবমুখর পরিবেশে ধান সংগ্রহ করছেন। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা নিয়মিত কৃষকদের সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী মে মাসের মধ্যেই মাঠের সব ধান কাটা ও মাড়াই সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে জেলা কৃষি বিভাগ।
বর্তমানে দিনাজপুরের প্রতিটি উপজেলায় ধান কাটার আধুনিক যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা কৃষকদের বড় সুফল দিচ্ছে। কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরির আগেই দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পূর্বাভাসকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ধান কাটা শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন