জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়িতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মিষ্টি জাতের লটকন চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন হাফেজ রুকুনউদ্দিন। স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত ও নির্বাচিত জাতের লটকন চাষ করে তিনি কৃষিক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। লটকন চাষে নরসিংদীর খ্যাতি দীর্ঘদিনের হলেও, ময়মনসিংহের এই অঞ্চলে নতুন জাতের লটকনের বাণিজ্যিক চাষ ও এর মিষ্টি স্বাদ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।নিজের গবেষণায় তিনি খুঁজে পেয়েছেন সবচেয়ে মিষ্টি জাতের লটকন।
হাফেজ রুকুনউদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে পুরনো গাছ ও স্থানীয় বিভিন্ন জাতের লটকন পর্যবেক্ষণ ও স্বাদ পরীক্ষার পর তিনি সেরা জাতটি সিলেকশন করেছেন। তার এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে স্থানীয় কৃষকরাও এখন লটকন চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন। রুকুনউদ্দিনের মতে, সঠিক জাত নির্বাচন ও পরিচর্যা করলে লটকন চাষ থেকে অনেক বেশি মুনাফা অর্জন সম্ভব। তিনি নিজেই চারা উৎপাদন করছেন এবং মানসম্পন্ন লটকন বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করছেন।
তার এই বাগানের লটকন বর্তমানে বাজারে ‘নয়নপুরি’ জাত হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। তার বাগানে কয়েক বছরের গাছ থেকেই এখন ফল পাওয়া যাচ্ছে, যা সাধারণ লটকন চাষের চেয়ে দ্রুত উৎপাদনশীল। রুকুনউদ্দিনের মতে, বাণিজ্যিক চাষের জন্য পরিপক্ক চারা রোপণ ও সঠিক সময় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, লটকন চাষ খুব একটা পরিচর্যার দাবি রাখে না, যা প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরি করেছে।
লটকন সাধারণত ছাদ কৃষির জন্য উপযোগী নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন। মাটির রস ও প্রাকৃতিক পরিবেশ লটকনের মিষ্টি ও গুণমান বজায় রাখতে অপরিহার্য। তিনি জানান, গাছ থেকে ফল সংগ্রহের সময় পরিপক্কতা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ অপরিপক্ক লটকন বাজারে গেলে ভোক্তারা প্রকৃত স্বাদ থেকে বঞ্চিত হন। তার বাগানের লটকন পুরোপুরি পাকলে তবেই তিনি বিক্রির জন্য বাজারজাত করেন।কৃষি অর্থনীতিতে লটকন এখন লাভজনক একটি ফসল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সঠিক বিপণন ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রসার ঘটলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন