রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

লটকন ও কাঠলিচু চাষে রিফাতের ব্যাপক সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগস্ট ৮, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম

লটকন ও কাঠলিচু চাষে রিফাতের ব্যাপক সাফল্য

ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ভিনদেশি ফল কাঠলিচু বা লটকন চাষ করে রীতিমতো বাজিমাত করেছেন এক প্রবাসী উদ্যোক্তা। মাও. মনিরুজ্জামান রিফাত নামের এই খামারির বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে বাদামি রঙের সুস্বাদু ফল, যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।দূর থেকে দেখলে এটিকে সাধারণ লিচু বাগান মনে হলেও কাছে গেলে মেলে নতুন চমক।

উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের জোতকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা রিফাত পেশায় মূলত একজন সফল পোলট্রি খামারি। দীর্ঘ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে প্রশাসনিক পদে চাকরির সুবাদে সেখানে লটকন ফলের সাথে তার প্রথম পরিচয় ঘটে। দেশে ফিরে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে চুয়াডাঙ্গা থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজস্ব দুই একর জমিতে তিনি এই ফলের আবাদ শুরু করেন। মাত্র চার থেকে পাঁচ বছরের নিবিড় পরিচর্যায় তার বাগানের প্রায় শতাধিক গাছে প্রচুর ফলন এসেছে।

চলতি বছর তার খামার থেকে উৎপাদিত ফলগুলো দেশের বাজারে প্রতি কেজি দুইশো থেকে আড়াইশো টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ফল বিক্রি করলেও এবার তার আয় ইতোমধ্যে দশ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফল বিক্রির পাশাপাশি তিনি প্রায় এক হাজার উন্নত জাতের চারাও বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছেন। আশপাশের জেলার অনেক তরুণ উদ্যোক্তা তার বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চারা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা জানান যে ভিয়েতনামি পিংপং জাতের এই লটকনে রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ তুলনামূলকভাবে খুবই কম হয়। অন্যদিকে দিনাজপুর হর্টিকালচার বিভাগের উপপরিচালক মো. এজামুল হক নিশ্চিত করেছেন যে উপযুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে উত্তরাঞ্চলে এই ফলের আবাদ কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এই ধরনের নতুন উদ্যোগে নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।