সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
রাজবাড়ী জেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের একটি সাবেক নিচু বিল এলাকায় সমন্বিত কৃষি ও হাঁসের খামার গড়ে তুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক উদ্যোক্তা। বাণিজ্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই খামারে হাঁস পালনের পাশাপাশি মাছ, দেশি মুরগি, কবুতর, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করা হচ্ছে।
উদ্যোগটির শুরু ছিল শূন্য থেকে। খামার প্রতিষ্ঠার আগে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা বিভিন্ন বইপত্র পড়ে, অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিয়ে এবং সরাসরি প্রশিক্ষণ সেমিনারে অংশ নিয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করেন। এমনকি উন্নত ব্যবস্থাপনার ধারণা নিতে ঢাকায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালায়ও অংশ নেন তিনি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর লক্ষ্য নিয়েই তিনি এই সমন্বিত প্রকল্প হাতে নেন। বর্তমানে খামারে মোট ৭০০টি ডিমপাড়া হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন সকালে হাঁসের ঘর থেকে ডিম সংগ্রহ করে প্লাস্টিকের ট্রেতে সাজানো হয়। ডিম যাতে ভেঙে না যায়, সে জন্য ঘরের নির্দিষ্ট অংশে ধানের খড় বিছিয়ে রাখা হয়। ৭০০ হাঁস থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৫৫০টি ডিম পাওয়া যায়, যা শতকরা হিসেবে ৮০ ভাগের বেশি। কোনো কোনো দিন ডিম সংগ্রহের সংখ্যা ৫৬৫ থেকে ৫৬৫টি পর্যন্ত পৌঁছায়।
খামারের মূল আকর্ষণ পুকুর ও হাঁসের সহাবস্থান। সকালবেলা খাবার দেওয়ার পর হাঁসগুলোকে উন্মুক্ত পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সারাদিন তারা পানিতে বিচরণ করে এবং রাতে খামারের ঘরে ফিরে আসে। হাঁসকে প্রতিদিন সকালে ভেজা ধান, ধানের কুঁড়া, বিশেষ দানাদার খাবার, লবণ ও পানির মিশ্রণ তৈরি করে খেতে দেওয়া হয়। খাবারে লবণ মেশানোর ফলে হাঁসগুলো দ্রুত খাবার গ্রহণ করে।
ডিমের গুণগত মান ও পুষ্টিমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিদিন দুপুরে হাঁসকে তাজা শামুক খাওয়ানো হয়। এই শামুক নিয়মিত কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে যানবাহনে করে খামারে আনা হয়। উদ্যোক্তার মতে, শামুক না খাওয়ালে ডিমের কাঙ্ক্ষিত স্বাদ ও বাণিজ্যিক মান ধরে রাখা কঠিন। হাঁসের খাবারের বাড়তি অংশ ও বিষ্ঠা সরাসরি পুকুরে পড়ায় সেখানে রুই, কাতলা ও মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছের জন্য আলাদা কৃত্রিম খাবারের প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে পুকুরের এসব মাছের ওজন আড়াই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত হয়েছে। মাছ ও হাঁসের পাশাপাশি খামারে লেয়ার জাতের মোরগের বাচ্চা পালন করা হচ্ছে। এগুলো ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে মাংস হিসেবে বিক্রির উপযোগী হয়। এর সাথে রয়েছে ছাগল, ভেড়া এবং পৃথক খোপে কবুতর পালনের ব্যবস্থা। খামারের সীমানাজুড়ে চায়না কমলা, চ্যাংমাই জাতের আম ও শাকসবজির বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।
উদ্যোক্তা জানান, মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও সবজি অপরিহার্য। এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করাই তার প্রধান লক্ষ্য। খামারের চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে এই সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন