অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
সংসারের চরম আর্থিক অনটন কাটিয়ে গৃহস্থালি টিউশনির জমানো সামান্য অর্থ দিয়ে হাঁসের খামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হয়েছেন এক প্রত্যন্ত নারী উদ্যোক্তা। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলেও উদ্যোক্তা হওয়ার তীব্র ইচ্ছাশক্তি তাকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। শুরুতে আশেপাশের মানুষের নানা প্রতিকূল মন্তব্য ও আর্থিক লোকসানের শঙ্কা থাকলেও নিজের অদম্য সাহস আর শ্রমের জোরে তিনি এখন গ্রামীণ জনপদে অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছেন।
টিউশনি করিয়ে জমানো মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি প্রথম হাঁস পালনের উদ্যোগ নেন। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি ২৫০টি হাঁসের বাচ্চা কিনে খামারের কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। প্রথম দিকে লাভ-লোকসানের দোলাচলে থাকলেও তিনি খামারের আয় থেকে ব্যক্তিজীবনে কোনো বাড়তি খরচ করেননি। বরং উৎপাদিত ডিম ও হাঁস বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ পুনঃবিনিয়োগ করে আড়াইশ থেকে ধাপে ধাপে ৫০০ এবং পরবর্তীতে এক হাজারে উন্নীত করেন।
বর্তমানে তার খামারে এক হাজার দুইশর বেশি ডিমপাড়া হাঁস রয়েছে। খামারের বিভিন্ন শেডে আলাদাভাবে ৬০০ এবং ৭০০ করে মোট এক হাজার তিনশ পর্যন্ত হাঁস লালন-পালনের ধারণক্ষমতা তৈরি করেছেন তিনি। শুরু থেকেই খামারের যাবতীয় পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনায় তার স্বামী সমানভাবে পাশে থেকে সার্বক্ষণিক শ্রম দিচ্ছেন। রাতে হাঁসের কোনো বাড়তি ঝামেলা না থাকায় প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে আটটার মধ্যে তারা দুজন খামারে প্রবেশ করে ডিম সংগ্রহ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করেন।
খামারের সফলতায় তার সামাজিক অবস্থান ও পারিবারিক স্বচ্ছলতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই স্বপ্নের হাঁসের খামার থেকেই তিনি সোনার অলঙ্কারসহ সংসারের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে দেখে এখন এলাকার বহু বেকার তরুণ ও গৃহিণী হাঁস পালনে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। শুরুতে পরিবারের পক্ষ থেকে পুঁজি নষ্ট হওয়া কিংবা রোগাক্রান্ত হয়ে হাঁস মারা যাওয়ার যে ভয় প্রকাশ করা হয়েছিল, তা দূর করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে সাহসের সাথে পরিশ্রম করলে নারীরাও যেকোনো কঠিন ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করতে পারেন।
খামার পরিচালনার জন্য বর্তমানে সার্বক্ষণিকভাবে দুজন কর্মচারীর কর্মসংস্থান হয়েছে, যারা নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ দেখাশোনা করেন। ভবিষ্যতে খামারের পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি জানান, খামারের হাঁসের সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন। এর মাধ্যমে তিনি গ্রামীণ অভাবী ও কর্মহীন নারীদের কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে চান, যাতে অনাহারে থাকা প্রান্তিক নারীরা সম্মানজনক আয়ের মাধ্যমে নিজেদের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন