সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার ঘোড়া আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উন্নত জাতের ঘোড়া উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে একটি বাণিজ্যিক প্রজনন খামার গড়ে তুলেছেন এক উদ্যোক্তা।
দীর্ঘ ১৩ থেকে ১৪ বছর ধরে তিনি এই প্রাণিসম্পদ খাতে কাজ করছেন। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় দেখতে দেখতে শখের বশে কেনা একটি রেসের ঘোড়া দিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেই ঘোড়াটি মারা যাওয়ার পর তিনি দেশেই আন্তর্জাতিক মানের ঘোড়া উৎপাদনের স্বপ্ন দেখেন।
বর্তমানে দেশের তরুণদের মধ্যে ঘোড়ায় চড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। উদ্যোক্তা জানান, বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতি বছর বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকার ঘোড়া আমদানি করে থাকে। সরকারিভাবে বিদেশ থেকে একটি ঘোড়া কিনতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ হয়। অথচ দেশেই এসব জাত প্রজনন করা সম্ভব হলে সেই ব্যয় অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। ইতিমধ্যে তিনি টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাংলাদেশ আনসারের কাছে সফলভাবে ছয়টি উন্নত ঘোড়া সরবরাহ করেছেন। তার খামারে মূলত চারটি ভিন্ন প্রজাতির ঘোড়া রয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সিন্ধি জাতের ঘোড়া, যা দম ও শারীরিক শক্তিমত্তার জন্য রেসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সিন্ধি জাত সবচেয়ে উপযোগী। পাশাপাশি খামারে রয়েছে মারোয়ারি জাতের আবলাক ঘোড়া, যার উচ্চতা ৬২ ইঞ্চি এবং বর্তমানে গর্ভবতী অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে থাকা সম্পূর্ণ সাদা রঙের ৬১ ইঞ্চি উচ্চতার নুকরা ঘোড়াও রয়েছে, যা মূলত মারোয়ারি জাতের একটি রূপ। তরুণ ক্রেতারা সাধারণত ১৫ মাস থেকে আড়াই বছর বয়সী দুধদাঁতের ইয়াং ঘোড়া বেশি পছন্দ করেন।
এক বছরে তিনি বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগ্রহ ও উৎপাদনের মাধ্যমে শতাধিক ঘোড়া বিক্রি করেছেন। খামারে ঘোড়ার দাম মানভেদে দুই লাখ টাকা থেকে শুরু করে তিন, চার, পাঁচ ও ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। উদ্যোক্তা উল্লেখ করেন, গরু অসুস্থ হলে বা পা ভেঙে গেলেও মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করা যায়, কিন্তু ঘোড়ার পা ভাঙলে তার আর কোনো আর্থিক মূল্য থাকে না। শুরুতে পরিবার ও পরিচিতজনরা এই শৌখিন উদ্যোগ নিয়ে উপহাস করলেও এখন প্রতি মাসে নিয়মিত এক থেকে দুটি উন্নত ঘোড়া বিক্রি হচ্ছে। ঘোড়ার দৈনন্দিন পরিচর্যায় সকালের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন সকাল আটটার মধ্যে ঘর পরিষ্কার করে আগের বাসি খাবার সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর কাঁচা ঘাস, খড় ও পুষ্টিকর দানাদার খাবার দেওয়া হয়। খাওয়ার পর ঘোড়াগুলোকে বাইরে এনে নিয়মিত ব্রাশ দিয়ে পুরো শরীরে গ্রুমিং করা হয়। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, চামড়ার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং বাহ্যিক পরজীবী দূর হয়। খামারের মেঝে কাঁচা মাটির তৈরি হওয়ায় রাত ১২টা থেকে একটার মধ্যে ঘোড়াগুলো মানুষের মতোই গা এলিয়ে শুয়ে ঘুমায়।
ঘোড়া মূলত মানুষের শরীরের ঘ্রাণ শুঁকে চিনে নেয় এবং প্রভুভক্ত আচরণ করে।
শুরুর দিকে ভারতীয় সীমান্ত থেকে আনা ঘোড়াগুলো হিন্দি ভাষা বুঝত এবং নির্দেশ দিলে থামত। তবে দীর্ঘদিন বাংলায় পরিচর্যার কারণে এখন তারা বাংলা ভাষার নির্দেশও সহজে বুঝতে পারে। অচেনা কেউ হুট করে কাছে গেলে ঘোড়া কামড় বা লাথি দিতে পারে, তাই শরীর স্পর্শ করার আগে নিজের শরীরের স্বাভাবিক ঘ্রাণ শুকিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি করতে হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন